টিকটক কিনতে আগ্রহী ‘ধনী ব্যক্তিদের দল’ রয়েছে: ট্রাম্প
একজন মার্কিন ক্রেতার কাছে টিকটক বিক্রির চুক্তি হয়েও তা বাতিল হয়ে যায় এপ্রিলে। কারণ, ওই সময় আমেরিকা ও চীনের মধ্যে শুল্ক নিয়ে বিরোধ চলছিল।
টিকটক কিনতে আগ্রহী এমন ‘ধনী ব্যক্তিদের একটি দল’ তার কাছে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে, নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হয়েছিল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপটি। ওই সময় টিকটকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের তথ্য চীনে চলে যেতে পারে– এ আশঙ্কা থেকেই দেশটিতে টিকটক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।
সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তার কাছে “অত্যন্ত ধনী কিছু ব্যক্তিদের একটি দল” রয়েছে, যারা টিকটক প্ল্যাটফর্মটি কিনতে আগ্রহী।
“আরও দুই সপ্তাহের মধ্যে আমি বিস্তারিত বলব,” এভাবে বিষয়টি নিয়ে একটু রহস্যও তৈরি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এ বিক্রির জন্য চীনা সরকারের অনুমোদন লাগবে। তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, তিনি মনে করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং “সম্ভবত এই অনুমতি দেবেন।”
এ মাসে ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো টিকটক বিক্রি বা যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধের আইন কার্যকরের সময় পিছিয়ে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
সর্বশেষ সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুসারে, টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকটক বিক্রির জন্য চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। এ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর অ্যাপটি বিক্রি না হলে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে টিকটকের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি টিকটক।
বিবিসি লিখেছে, একজন মার্কিন ক্রেতার কাছে টিকটক বিক্রির চুক্তি হয়েও তা এপ্রিলে বাতিল হয়ে যায়। কারণ, ওই সময় আমেরিকা ও চীনের মধ্যে শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প চীনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসাতে চাইছিলেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
ট্রাম্প যে নতুন ক্রেতার কথা বলছেন তিনি কি সেই পুরনো ক্রেতাই না কি নতুন কেউ তা এখনও পরিষ্কার নয়। হতে পারে তিনি আগের জনই, আবার নতুন কেউ হওয়ার সম্ভবনাও রয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে একটি আইন পাশ করেছে মার্কিন কংগ্রেস। এ আইনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মালিকানা বিক্রি করতে হবে অন্যথায় দেশটিতে নিষিদ্ধ হবে অ্যাপটি।
ওই সময় মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেছিলেন, টিকটক বা এর মূল কোম্পানি মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্য চীনা সরকারের কাছে পাঠাতে পারে। তবে এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে টিকটক।
প্রথম মেয়াদে টিকটক অ্যাপটির সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজের জয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কারণ হিসেবে অ্যাপটিকে দেখতে শুরু করেন তিনি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক ব্যবহারের পক্ষে সমর্থনও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
বিবিসি লিখেছে, আইনটি ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে টিকটকের ওপর আইনটির প্রয়োগ স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। তার এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। কারণ অনেকে বলছেন, এতে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কাজ করছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন ওই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল টিকটক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আপিলে হেরেছে চীনা অ্যাপটি।
