অ্যাপলের চেয়ে মেটার ভিআর কেন ভালো হবে- বললেন জাকারবার্গ
“আমার দেখা প্রতিটি কম্পিউটিং প্রজন্মে, পিসি বা মোবাইল যাই হোক না কেন, এতে সাধারণত একটি করে ওপেন ও ক্লোজড ইকোসিস্টেম থাকে।”--বলেছেন জাকারবার্গ।
মার্ক জাকারবার্গ কার্যত জানিয়েই দিলেন যে, অ্যাপলের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে তিনি প্রস্তুত। মেটার ‘কানেক্ট’ সম্মেলন আর এক সংবাদ সাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের ‘ক্লোজড ইকোসিস্টেমে’র সমালোচনা করলেন তিনি।
“বর্তমানে অ্যাপলের অঘোষিত ‘ভিআর’ প্ল্যাটফর্ম গ্রাহকদের জন্য বাজে হবে কারণ এটি একটি ক্লোজড ইকোসিস্টেম।” -- বুধবার আয়োজিত সম্মেলন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন জাকারবার্গ।
আর মেটার সিস্টেমের প্রশংসা করে একে ‘ওপেন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে একই বিষয় উল্লেখ করে মেটার কর্মীদের তিনি বলেছেন, মেটাভার্সের ভবিষ্যত প্রশ্নে অ্যাপলের সঙ্গে ‘বেশ গভীর, দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিযোগিতার’ মধ্যে আছে মেটা। তবে, সোমবার বিষয়টি খোলাখুলিই বললেন তিনি।
ভিআর সিস্টেম উন্নত করার লক্ষ্যে মেটার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন অংশীদার সম্পর্কে ভার্জের প্রতিবেদক অ্যালেক্স হিথের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, ক্লোজড বা ওপেন ইকোসিস্টেম যাই হোক না কেন কী কারণে ভিআর এখনও প্রস্তুত নয়।
ওই সাক্ষাৎকারের মতোই জাকারবার্গ কানেক্ট সম্মেলনে বক্তব্য (প্রায় এক ঘন্টা ৫০ মিনিট) শেষ করেন কম্পিউটিং ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে।
“আমার দেখা প্রতিটি কম্পিউটিং প্রজন্মে, পিসি বা মোবাইল যাই হোক না কেন, এতে সাধারণত একটি করে ওপেন ও ক্লোজড ইকোসিস্টেম থাকে।”--বলেছেন জাকারবার্গ।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ‘উইন্ডোজ’ বনাম ‘ম্যাকওএস’ ও ‘অ্যান্ড্রয়েড’ বনাম ‘আইওএস’কে। জাকারবার্গ আরও বলেন, ক্লোজড ইকোসিস্টেমে আয়ের বেশিরভাগই চলে যায় প্ল্যাটফর্ম মালিকের কাছে।
ওপেন ইকোসিস্টেমের বেলায় বিষয়টি পুরো বিপরীত, যেখানে জাকারবার্গ বলছেন, তুলনামূলক বেশি (কোম্পানি ও) লোকজনের বিপরীতেও যেতে পারেন যে কেউ।
সম্মেলনে তিনি বক্তব্য শেষ করেন এই বলে, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিভিন্ন নির্মাতা ও কোম্পানির তৈরি উন্মুক্ত, কার্যকর মেটাভার্স অভিজ্ঞতা ভালো হবে সবার জন্য।”
এর জবাবে প্রতিবেদনে ভার্জ বলছে, কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি অ্যাপলের বদলে তার কোম্পানির ‘বেশ ব্যয়বহুল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তবে তা তো মেটার জন্য ভালো হবেই!
সাক্ষাৎকারে তিনি যোগহ করেন, অ্যাপল যদি ম্যাক এবং আইফোনের মতোই তাদের হেডসেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে, তবে সেটি অন্যান্য ভিআর প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি ‘আঘাত’ হয়েই দাঁড়াবে।
“এটি নিশ্চিত যে অ্যাপল ভবিষ্যতের এই প্রতিযোগিতা দেখতে পাচ্ছে ও তারা আমাদের পেছনে ফেলতে চায়। তবে, আমি মনে করি এটা পরিষ্কার যে, তারা যা করছে, সে ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য যতটা ভালো বলে তারা দাবি করে ততটা নয়।”
ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা প্ল্যাটফর্মকে ‘ওপেন’ বলার পেছনে জাকারবার্গের যুক্তি হলো, এর সফটওয়্যার তৈরির জন্য তাদের মাইক্রোসফট, অটোডেস্ক এবং অ্যাক্সেনচারের মতো অংশীদার আছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ডেকোডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ভিআর হেডসেট তৈরি করা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করতে তিনি উন্মুক্ত। তবে, কোম্পানির মেটাভার্স অভিজ্ঞতা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি রাজীও হননি তিনি।
বর্তমানে মেটার ফ্ল্যাগশিপ ভিআর অ্যাপ হলো ‘হরাইজন ওয়ার্ল্ডস’, যা কেবল মেটার কোয়েস্ট হেডসেটে মিলছে। জাকারবার্গ অবশ্য বলেছেন যে ফোন এবং ওয়েব সংস্করণেও আসবে এটি।
“আমি মনে করি, এটি আসলে কীভাবে কাজ করবে তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।”-বলেন তিনি। এর আগে স্যামসাংয়ের মতো কোম্পানির সঙ্গেও ‘সঠিক সময়ে’ কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
