০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আইফোনে স্পাইওয়্যার: ১১০ দেশে অ্যাপলের সতর্কতা

অ্যাপলের থ্রেট নোটিফিকেশন এমন ব্যবহারকারীদের জানানো ও সহায়তা করার জন্য তৈরি, পরিচয় বা কাজের কারণেই যাদের ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

আইফোনে স্পাইওয়্যার: ১১০ দেশে অ্যাপলের সতর্কতা
অ্যাপলের পাঠানো এমন স্পাইওয়্যার সতর্কতা এটাই প্রথম নয়। ছবি:

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 10:23 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

১১০টি দেশের আইফোন ব্যবহারকারীদেরকে নতুন করে স্পাইওয়্যার সতর্কতা পাঠিয়েছে অ্যাপল। ১৩ আগস্ট রেডিটের কয়েকজন ব্যবহারকারী এমন একটি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ নোটিফিকেশন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

ওই সতর্কবার্তা আসল কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিলে অ্যাপল নিশ্চিত করেছে, সতর্কতাটি আসল।

এর আগে অ্যাপল একাধিকবার স্পাইওয়্যার হামলার বিষয়ে সতর্কতা পাঠিয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে এসব নোটিফিকেশনের ধরন কিছুটা বদলে যাওয়ায় নতুন সতর্কবার্তাটি সত্যিই অ্যাপলের কাছ থেকে এসেছে কি না, তা নিয়ে ব্যবহারকারীরা সন্দিহান ছিলেন।

এ নিয়ে ফোর্বসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে অ্যাপল লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যবহারকারীদের সরাসরি আইফোনে এবং অ্যাপল থ্রেট নোটিফিকেশনস থেকে পাঠানো ইমেইলের মাধ্যমে সতর্ক করছে। অ্যাপলের ওই ইমেইল ঠিকানাটিও তাদের নোটিফিকেশনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে, অ্যাপল বলেছে, ‘ব্যবহারকারীর ডিভাইসের মডেল এবং সফটওয়্যারের সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে নোটিফিকেশনের ধরন ভিন্ন হতে পারে।’

স্পাইওয়্যার সতর্কতা কেন?

অ্যাপলের পাঠানো এমন স্পাইওয়্যার সতর্কতা এটাই প্রথম নয়। কোম্পানিটি এর আগেও বহুবার এমন সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ একটি এসেছিল গত ডিসেম্বরে।

অ্যাপল বলছে, তাদের থ্রেট নোটিফিকেশন এমন ব্যবহারকারীদের জানানো ও সহায়তা করার জন্য তৈরি, যাদের পরিচয় বা কাজের কারণেই ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

অ্যাপলের ভাষায়, ‘ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলায় কোটি কোটি ডলার খরচ হয় এবং এসব হামলার কার্যকারিতার মেয়াদ প্রায়ই খুব কম থাকে। ফলে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা অনেক কঠিন।’

তবে অ্যাপল বলেছে, বিশালসংখ্যক সাধারণ ব্যবহারকারী কখনো এ ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হন না।

অ্যাপল আরও বলেছে, তাদের থ্রেট নোটিফিকেশনগুলো কোনো ব্যবহারকারীকে ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলার ব্যক্তিগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করার পর পাঠানো হয়। তাই এ ধরনের সতর্কতাকে ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত’।

২০২১ সাল থেকে অ্যাপল বছরে একাধিকবার এ ধরনের থ্রেট নোটিফিকেশন পাঠিয়ে আসছে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ১৫০টির বেশি দেশের ব্যবহারকারীকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

আইফোনে স্পাইওয়্যার হামলা যেভাবে হয়

স্পাইওয়্যারের মধ্যে এনএসও গ্রুপের পেগাসাস ম্যালওয়্যার অন্যতম আলোচিত। নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজির পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এই ম্যালওয়্যার ব্যবহারের ঘটনা উঠে এসেছে।

সাধারণত এ ধরনের স্পাইওয়্যার ‘জিরো-ক্লিক অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে আইফোনে প্রবেশ করে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীকে কোনো লিংকে ক্লিক করা বা কোনো কাজ করার প্রয়োজন হয় না।

আইফোনে স্পাইওয়্যার ঢুকে গেলে এর ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ তখন হামলাকারী ব্যবহারকারী কী করছেন, কী বলছেন এবং কী শুনছেন, তার অনেক কিছুই দেখতে ও শুনতে পারেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করলেও তা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।

সাধারণ আইফোন ব্যবহারকারী কি ঝুঁকিতে?

১১০টি দেশে সতর্কতা পাঠানোর বিষয়টি ‘উদ্বেগজনক মনে হতে পারে’, তবে সাধারণ আইফোন ব্যবহারকারীর জন্য এটি সরাসরি ঝুঁকি নয় বলে মনে করেন জ্যামফের জ্যেষ্ঠ এন্টারপ্রাইজ কৌশল ব্যবস্থাপক অ্যাডাম বয়ন্টন।

তিনি বলেন, ‘ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক প্রযুক্তি। মানুষকে তাদের পরিচয়, তারা কী জানেন এবং কার সঙ্গে কথা বলেন, তার ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এসব প্রযুক্তি জিরো-ডে এক্সপ্লয়েটের ওপর নির্ভর করে, কারণ আইফোনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ঢোকার জন্য হামলাকারীদের কাছে এর চেয়ে সস্তা কোনো পথ নেই।’

বয়ন্টনের মতে, অ্যাপলের নিজস্ব তথ্যেও লকডাউন মোড চালু থাকা কোনো ডিভাইস আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার মতে, এতে বোঝা যায় অ্যাপলের সতর্কতা এবং এর পরামর্শে কাজ হচ্ছে।

তবে বয়ন্টন সতর্ক করে বলেছেন, স্পাইওয়্যারের লক্ষ্য শুধু সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় এখন ক্রমেই নির্বাহী, আলোচক এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত তথ্য বা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিরাও যুক্ত হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নোটিফিকেশনগুলোর কোনো একটি যদি কর্মক্ষেত্রের ডিভাইসে আসে, তাহলে প্রথম মিনিট থেকেই সেটিকে নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ডিভাইসটি মুছে ফেলার বদলে সেটি সংরক্ষণ করতে হবে, লকডাউন মোড চালু করতে হবে এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে।’

স্পাইওয়্যার থেকে বাঁচতে যা করবেন

অ্যাপলের আইফোনে স্পাইওয়্যার ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগে থেকেই সতর্ক থাকা। ব্যবহারকারী যদি মনে করেন তিনি এ ধরনের হামলার লক্ষ্য হতে পারেন, তাহলে আইফোনে লকডাউন মোড চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ম্যালওয়্যারের পক্ষে ডিভাইসে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

একই সঙ্গে অ্যাপল আইওএসের নতুন আপডেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তা ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, সাধারণত পুরোনো সফটওয়্যারের ত্রুটিকে কাজে লাগিয়েই হামলাকারীরা আইফোনে স্পাইওয়্যার ঢোকায়।

কেউ যদি মনে করেন তার আইফোন স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে, তাহলে ডিভাইসটি একবার বন্ধ করে আবার চালু করলে কখনো কখনো হামলার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তবে এতে স্পাইওয়্যার পুরোপুরি মুছে যায় না।

ডিভাইসে স্পাইওয়্যার থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হলে অ্যাপলের পরামর্শ অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো ওই সেটটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া।