চাকরি ফেরত চাইছেন জুম কলে ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও
২০২১ সালে ক্রিসমাসের ঠিক আগে সবাই যখন বড়দিনের আমেজে, সে সময় কোম্পানির এক জুম কলেই ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করে আলোচনায় এসেছিলেন গার্গ।
চাকরি ফেরত চান বরখাস্ত হওয়া সিইও। এইটুকু বড় কোনো খবর নয়। এবার ভিশাল গার্গ খবরের শিরোনাম হয়েছেন, যেভাবে তিনি ২০২১ সালে নিজের কোম্পানির নয়শ লোককে বরখাস্ত করেছিলেন, সেই কারণে।
২০২১ সালে ক্রিসমাসের ঠিক আগে সবাই যখন বড়দিনের আমেজে, সে সময় কোম্পানির এক জুম কলেই ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করে আলোচনায় এসেছিলেন গার্গ। এখন তিনি বলছেন, সাফল্যের একেবারে দ্বারপ্রান্তে কোম্পানিকে নিয়ে যাওয়ার পর গত ৩ অগাস্ট তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন বলছে, গত কয়েক বছরে গার্গের নেতৃত্বে তার কোম্পানি বেটারকে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
মহামারির সময় বন্ধকী ঋণের পুনঃঅর্থায়নের ব্যবসায় ব্যাপক গতি এসেছিল এবং ঋণের সুদহার ৩ শতাংশের নিচে ছিল, তখন কোম্পানিটির মূল্যায়ন ছিল ৮০০ কোটি ডলার। এখন সেই ব্যবসা মডেল কার্যত ধসে পড়েছে, সুদের হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বন্ধকী ঋণ কোম্পানিটির বাজারমূল্য নেমে এসেছে মাত্র ৩০ কোটি ডলারে।
এর সঙ্গে ছিল বিব্রতকর ইতিহাস। জুম কলে কর্মী ছাঁটাইয়ের পর গার্গের ছুটিতে যাওয়া, এক তথ্যফাঁসকারীর মামলা, যা পরে প্রত্যাহার হয়ে যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্ত, যার পরিণতি কিছু হয়নি, এবং ২০২৩ সালে স্প্যাক নামের আকে কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঘটনা যার ফলাফল একেবারেই ভালো হয়নি।
ওই একীভূতকরণের পর কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ৯৩ শতাংশ পড়ে যায়। এর পাশাপাশি বছরের পর বছর জমছিল লোকসান। এসবের পরও গার্গ এত দিন সিইও হিসেবে টিকে ছিলেন।
তবে গার্গের দাবি, কোম্পানির ঘুরে দাঁড়ানোর অসম্ভব কাজটিকেই তিনি সফল করার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
কোম্পানির মূল পুনঃঅর্থায়ন ব্যবসা ধসে পড়ার পর বেটারের বার্ষিক বিক্রি ২০২১ সালের ১৫০ কোটি ডলার থেকে ২০২৩ সালে নেমে আসে ৭ কোটি ডলারে। গার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কোম্পানিটি ২০ কোটি ডলারের বিক্রি করতে পারে।
দ্রুত বন্ধকী ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণ দিয়ে কোম্পানিটি ঘুরে দাঁড়ায়। এমন একটি কাজ করতে সাধারণত কয়েক ডজন মানুষের কয়েক দিন সময় লাগত।
গার্গের দাবি, কোম্পানিটি নিও হোম লোনসের সঙ্গে পার্টনারশিপ উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করেছে এবং ঋণ সংশ্লিষ্ট খরচ ৫০ শতাংশ কমিয়েছে।
ফল দেখে মুগ্ধ হয়ে ইনটুইট, কয়েনবেইস ও ওপেনএআই চলতি বছর বেটারের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। এসব কোম্পানি নিজেদের বন্ধকী ঋণসেবা পরিচালনায় বেটারের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বেটার একই সঙ্গে গৃহঋণের বিপরীতে নেওয়া ঋণের একটি শক্তিশালী ব্যবসাও গড়ে তুলেছে।
গার্গ বলেন, “আমরা জিতছি। আমাদের ব্যবসার পরিমাণ তিন গুণ হয়েছে। আমরা মুনাফার খুব কাছাকাছি। আমরা মাঠের এক প্রান্ত থেকে পুরো পথ বল নিয়ে এসে পাঁচ গজের লাইনে পৌঁছে গিয়েছিলাম।”
গার্গ স্বীকার করেন, তিনি “কঠোর মানসিকতার” মানুষ এবং জুমে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা কোম্পানিটির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি জানেন, এই ভুল তাকে আরও অনেক দিন তাড়া করে বেড়াবে।
কী ঘটেছিল?
সাফল্যের রেকর্ড খুব একটা ধারাবাহিক নয়, এমন এক হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক লুইস প্রায় ছয় মাস আগে গার্গের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন লুইস তাকে খরচ কমানো এবং কোম্পানিকে মুনাফায় নেওয়ার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
গার্গ বলেন, “খরচ কমানোর বিষয়ে তার চিন্তাগুলো ভালো ছিল, তবে তার উদ্ভাবনী ধারণা ভালো ছিল না। আর, আমরা যখন সাফল্যের এত কাছে, তখন কারও পক্ষে এসে বলা যে, আরও ভালো করা যেত, সেটা অনেক সহজ।”
গত ২৭ জুলাই লুইস পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হন। মাত্র এক সপ্তাহ পর তিনি অন্য পরিচালকদের রাজি করিয়ে গার্গকে সিইওর পদ থেকে সরিয়ে দেন এবং তিনি নিজে নতুন সিইও হয়ে বসেন।
গার্গের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে লুইস তার আসল উদ্দেশ্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি। বরং তিনি গার্গকে পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদে জায়গা পাওয়ার জন্য তার সমর্থন নিয়েছেন।
গার্গ বলেন, “আমার ধারণা, তিনি সব সময়ই সিইও হতে চেয়েছিলেন। পরিচালনা পর্ষদ ভুল করেছে।”
বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়াতেও গার্গের কথার কিছুটা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। লুইস সিইওর দায়িত্ব নেওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৪৫ শতাংশ কমেছে। অবশ্য গার্গের বিদায়ের ঘোষণা আসার আগেই চলতি বছরে শেয়ারটির দাম ১৬ শতাংশের বেশি কমেছিল।
সিইও পদ ছাড়ার এক সপ্তাহ পরও গার্গ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে আছেন। এর মধ্যে কয়েকজন উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার সিইও’র দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানান তিনি।
গার্গের হাতে বিশেষ ভোটাধিকার থাকা বি শ্রেণির শেয়ার রয়েছে। নিজের শেয়ারের পাশাপাশি কোম্পানিটির শুরুর দিকের কয়েকজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিনিয়োগকারীর শেয়ারও তার পক্ষে রয়েছে। গার্গের দাবি, তাকে আবার সিইও করার পক্ষে ভোট নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত শেয়ার তার হাতে রয়েছে।
নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করতে কুইন ইমানুয়েলের পার্টনার ও প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ দিয়েছেন গার্গ। গত সোমবার পরিচালনা পর্ষদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাকে আবার সিইও হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গার্গ বলেন, কোম্পানিটি আবার মুনাফায় না ফেরা পর্যন্ত তিনি বছরে মাত্র এক ডলার বেতনে কাজ করতে রাজি আছেন। এরপর তিনি সিইওর পদ থেকে সরে যাবেন।
আরও পড়ুন
