বাংলাদেশে সংযোজন করা এসইউভি এক্স৭০ আনল প্রোটন
যানজটে বারবার গতি কমানো বা বাড়ানোর ঝামেলা দূর করে অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, আর জরুরি পরিস্থিতিতে চালকের আগেই কাজ করে অটোনোমাস ইমারজেন্সি ব্রেকিং।
মালয়েশিয়ার প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়ি এখন সংযোজন হচ্ছে বাংলাদেশেই। এরই ধারাবাহিকতায় ‘প্রাউডলি মেইড ইন বাংলাদেশ’ হিসাবে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশে বাজারজাত করতে শুরু করল প্রোটন এক্স৭০ এসইউভি।
গাড়ি আমদানী-রপ্তানীর ধরন বোঝাতে কয়েকটি টার্ম প্রায়ই উচ্চারিত হয়- সিবিইউ, সিকেডি বা এসকেডি। সিবিইউ মানে হচ্ছে কমপ্লিট বিল্ট ইউনিট, মানে যে গাড়ি পুরোপুরি তৈরি অবস্থায় আমদানী হয়। সিকেডি মানে হচ্ছে, কমপ্লিটলি নকড ডাউন ভেহিকল। মানে, যে গাড়ির প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা আমদানী হয়। দেশে এনে সেগুলো সংযোজন বা জুড়ে দিয়ে গাড়ি তৈরি হয়। আর এসকেডি হচ্ছে এর মাঝামাঝি অবস্থা- সেমি নকড ডাউন।
বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রোটন এক্স৭০ এসইউভি এসকেডি শেণিভূক্ত বলে উদ্বোধনী আয়োজনে জানিয়েছেন র্যানকন নির্বাহীরা।
অনুষ্ঠানে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. বদিউজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে প্রোটন এক্স৭০ এর উদ্বোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি দেশে অ্যাসেম্বল করা প্রথম প্রোটন এক্স৭০।
“আমরা বাংলাদশে প্রোটন এক্স৭০ অ্যাসেম্বলে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছি। দেশের অটোমোবাইল শিল্পে এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
কোম্পানির বিপণন প্রধান ইয়াসির কাদের আবেদীন গাড়িটিকে সি-সেগমেন্টের কমপ্যাক্ট ক্রসওভার এসইউভি হিসাবে বর্ণনা করেন। গাড়িটিতে সেমি অটোনমাস কয়েকটি ফিচারের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
এতে আছে আধুনিক অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (এডিএস), যা “চালকের একজন বুদ্ধিমান সহকারীর মতো” কাজ করে। যানজটে বারবার গতি কমানো বা বাড়ানোর ঝামেলা দূর করে অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, আর জরুরি পরিস্থিতিতে “চালকের আগেই কাজ করে অটোনোমাস ইমারজেন্সি ব্রেকিং”। উঁচু বা ঢালু রাস্তায় গাড়ি থামাতে বা নামাতে হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং হিল ডিসেন্ট কন্ট্রোল দারুণ সহায়তা করে - বললেন ইয়াসির।
এক প্রশ্নের জবাবে মো. বদিউজ্জামান বলেন, এর দেড় হাজার সিসির টার্বোচার্জড টিজিডিআই (টিজিডিআই) পেট্রোল ইঞ্জিন লিটারে গড়ে ১০ কিলোমিটার চলবে। তবে, রাস্তার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ সংখ্যা কমবেশি হবে।
“ঢাকার রাস্তায় জ্যামের ভেতর বারবার থামতে হলে হয়ত সাত বা আট কিলো চলবে। আবার হাইওয়েতে আমি ১৪-১৫ কিলোমিটারও পেয়েছি।”
উদ্বোধনী দিন থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রোটনের অনুমোদিত শোরুমগুলোতে গাড়িটি পাওয়া যাবে। এর দাম শুরু হবে সাড়ে ৩৮ লাখ টাকা থেকে। মিলবে পাঁচ বছর বা দেড় লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবা।
