ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ কিনে আইন ভাঙেনি মেটা: আদালত
এ জয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভাঙনের ঝুঁকি এড়াল মেটা, যেখানে রায় কোম্পানির বিপক্ষে গেলে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপকে আলাদা কোম্পানি বানাতে হত।
ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটা প্রায় ১০ বছর আগে ছবি শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম ও মেসেজিং পরিষেবা হোয়াটসঅ্যাপ কিনে প্রতিযোগিতা বিরোধী আইন লঙ্ঘন করেনি বলে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত।
বিবিসি লিখেছে, এ রায়ের ফলে পরাজয় ঘটল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ফেডারেল ট্রেড কমিশন’ বা এফটিসি’র। সংস্থাটি ২০২০ সালে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, যেখানে এফটিসি’র দাবি ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন কোম্পানিকে কিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে মেটা।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জেমস বোসবার্গ বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, সংস্থাটি তার দাবি ঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারেনি, সংশ্লিষ্ট বাজারে মেটার কোনো একচেটিয়া আধিপত্য নেই।”
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে মেটা বলেছে, আদালতের এমন রায় থেকেই ইঙ্গিত মেলে ‘মেটাও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে’।
এ বছরের এপ্রিলে দীর্ঘ শুনানির সভাপতিত্ব কছেরেন বিচারক বোসবার্গ, যেখানে মেটা প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা যুক্তি দিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষেত্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে টিকটক ও ইউটিউব।
রায়ে বিচারক বোসবার্গ বলেছেন, ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম ও ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ কেনার বিষয়টি সেই সময় এফটিসি নিজেই পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছিল।
সংস্থাটি যুক্তি দিয়েছে, ১০০ কোটি ডলারে ইনস্টাগ্রাম ও ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনেছিল মেটা, যা ওই সময়ের বাজারদর অনুযায়ী বেশি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সবসময় পরিবর্তনশীল এক ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করে বিচারক বোসবার্গ বলেছেন, “এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যাপের উত্থান-পতন ঘটে, এক ধরনের উন্মাদনার পেছনে ছুটছে এসব অ্যাপ, একটি থেকে অন্যটি এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা ও প্রতি বছর নতুন ফিচার যোগ হচ্ছে”।
বিচারক বোসবার্গ আরও বলেছেন, ধরা যাক মেটা অতীতে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে তবুও এফটিসি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, ‘কোম্পানিটি এখনও সেই শক্তি ধরে রেখেছে’। কারণ মেটার বাজারে অংশ ‘কমতে শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে’।
রায়ের পর এফটিসি বলেছে, এখনও নিশ্চিত নয় যে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না।
এফটিসির জনসংযোগ পরিচালক জো সিমনসন বলেছেন, “আমরা এই রায়ে গভীরভাবে হতাশ”। তবে সংস্থা সব ধরনের বিকল্প বিষয় পর্যালোচনা করছে।
মঙ্গলবারের এ জয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভাঙনের ঝুঁকি এড়াল মেটা, যেখানে রায় কোম্পানির বিপক্ষে গেলে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ আলাদা কোম্পানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হত।
তবে মেটার আইনি জটিলতা এখনও শেষ হয়নি।
তরুণদের ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে গুরুত্বপূর্ণ এক মামলায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপারিয়র আদালতে মেটা বলেছিল, এ মামলায় জানুয়ারিতে তাদের প্রতিনিধি (সম্ভবত মার্ক জাকারবার্গ) নিজে গিয়ে হাজির হওয়ার বিষয়টি জরুরি নয়।
তবে মেটার এ যুক্তি না মেনে বিচারক ক্যারোলিন কুল নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের উপস্থিত হতে হবে।
