০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরানো ফোন ব্যবহারে ওয়াই-ফাই সিগনাল বাড়ানোর সহজ উপায়

ঘরের যে অংশে নেটওয়ার্ক দুর্বল সেখানে স্রেফ একটি চার্জার ও ওয়াই-ফাই সিগনালের আওতায় রেখে পুরানো ফোনটিকে ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

পুরানো ফোন ব্যবহারে ওয়াই-ফাই সিগনাল বাড়ানোর সহজ উপায়
এ সুবিধা পেতে বাড়তি কোনো অ্যাপ ডাউনলোড, হার্ডওয়্যার কেনা বা বিশেষ কারিগরি সক্ষমতার প্রয়োজন নেই। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 01:06 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

ঘরের যে সব কোণে ওয়াই-ফাই সিগনাল পৌঁছায় না বা দুর্বল থাকে সেইসব ডেড জোনের সমস্যা কাটাতে এখন আর নতুন কোনো এক্সটেন্ডার, মেশ নোড বা শক্তিশালী রাউটার কেনার প্রয়োজন নেই।

ড্রয়ারে অকেজো পড়ে থাকা ব্যবহারকারীর পুরানো অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি দিয়েই এ ভোগান্তির সমাধান করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

দৈনন্দিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও অনেক পুরানো ফোনই ফেলে দেওয়ার মতো নষ্ট হয় না। ই-বর্জ্য হিসেবে পুনরায় ব্যবহারের জন্য দেওয়ার আগে ফোনটির সম্ভাবনা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ঘরের যে অংশে নেটওয়ার্ক দুর্বল স্রেফ একটি চার্জার ও ওয়াই-ফাই সিগনালের আওতায় রেখে পুরানো ফোনটিকে ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

এ সুবিধা পেতে বাড়তি কোনো অ্যাপ ডাউনলোড, হার্ডওয়্যার কেনা বা বিশেষ কারিগরি সক্ষমতার প্রয়োজন নেই। অ্যান্ড্রয়েডের নিজস্ব হটস্পট ফিচার ব্যবহার করেই ফোনটি মূল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ হবে ও রিপিটার হিসেবে কাজ করে সিগনালের পরিধি বাড়িয়ে দেবে।

অ্যান্ড্রয়েড ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার কীভাবে কাজ করে?

ঘরের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি মূল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেই সিগনালকে আলাদা এক হটস্পট হিসেবে পুনরায় সম্প্রচার বা রি-ব্রডকাস্ট করে।

ফলে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা স্মার্ট টিভির মতো অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসগুলো খুব সহজেই সেই সিগনালের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। মূল রাউটার থেকে সিগনাল গ্রহণ করে অন্য ডিভাইসে পৌঁছে দেওয়ার এ রিলে পদ্ধতির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করেই দুর্বল সিগনালের সমাধান মেলে।

পুরানো ফোনটি খুঁজে বের করে পুরোপুরি চার্জ দেওয়ার পর সাম্প্রতিক বিভিন্ন আপডেট সম্পন্ন করে নিতে হবে। এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন–

●    ফোনের ‘সেটিংস’ অপশন থেকে ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট’ এ গিয়ে ‘ইন্টারনেট’-এ যেতে হবে, সেখান থেকে ঘরের মূল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে পাসওয়ার্ড দিয়ে সংযোগ নিশ্চিত করুন।

●    ‘সেটিংস’ থেকে ‘হটস্পট অ্যান্ড টিথারিং’ অপশনে গিয়ে ‘ওয়াই-ফাই হটস্পট’ সচল বা টগল অন করে নিন। চাইলে ফোনের ওপরের নোটিফিকেশন বার থেকেও সরাসরি চালু করা সম্ভব।

●    ওয়াই-ফাই হটস্পট অপশনে ট্যাপ করে নেটওয়ার্কের একটি সহজ নাম ও নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করতে হবে।

●    ডিভাইসটিতে সাপোর্ট থাকলে ব্যান্ডের ক্ষেত্রে ‘৫ গিগাহার্টজ’ বেছে নেওয়া ভালো। এটা কাছাকাছি ডিভাইসে দ্রুতগতি সরবরাহ করবে। তবে দূরত্বের ক্ষেত্রে ‘২.৪ গিগাহার্টজ’ বেশি কার্যকর।

●    রাউটার ও সিগনালবিহীন ‘ডেড জোনের’ মাঝামাঝি কোনো স্থানে ফোনটি রাখতে হবে। সার্বক্ষণিক হটস্পট চালু রাখলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। ফলে ফোনটি অবশ্যই চার্জারের প্লাগ পয়েন্টের কাছাকাছি রাখা জরুরি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে সিগনালের পরিধি বাড়লেও মূল ইন্টারনেটের গতি কোনোভাবেই বাড়বে না। মূল ইন্টারনেট সংযোগ ধীরগতির হলে হটস্পট দিয়ে তা বাড়ানো সম্ভব নয়।

বাণিজ্যিক এক্সটেন্ডারগুলোর তুলনায় এ ব্যবস্থার কার্যসক্ষমতা কিছুটা সীমিত। পাশাপাশি, ডেডিকেটেড এক্সটেন্ডারের মতো এতে অটো-রোমিং সুবিধা না থাকায় ঘরের ভেতরে চলাচলের সময় ম্যানুয়ালি নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে হতে পারে। তবে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়া দ্রুত সমাধানের জন্য এ ঘরোয়া পদ্ধতি কার্যকর।

অ্যান্ড্রয়েড ফোন বনাম বাণিজ্যিক সমাধান

এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও আপনি এ মুহূর্তে নেটওয়ার্কের পেছনে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করতে চান কি না তার ওপর।

একটি পুরানো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে এক্সটেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করতে কোনো খরচ হয় না, যা ঘরের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সাময়িক বা সম্পূরক নেটওয়ার্ক সুবিধা পাওয়ার জন্য আদর্শ সমাধান। তবে দীর্ঘমেয়াদে নেটওয়ার্ক কভারেজ ও উচ্চ কার্যসক্ষমতা চাইলে বাণিজ্যিক ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার, মেশ নোড বা নতুন রাউটারই বেশি কার্যকর।

মনে রাখা জরুরি, এমনটা কেবলই ব্যবহারিক বিকল্প বা সাময়িক ব্যবস্থা, স্থায়ী কোনো নেটওয়ার্ক সমাধান নয়।