৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ওয়ান আন্তাও থেকে ছাও শিকি: চীনের সাফল্যের সূত্র

আগ্রহী শিশু, কিশোর-কিশোরী, পরিবার, সরকার এবং ফেডারেশনের সম্মিলিত উদ্যোগে সাফল্যের চূড়ায় যাওয়ার সিঁড়ি বানিয়েছে চীন।

ওয়ান আন্তাও থেকে ছাও শিকি: চীনের সাফল্যের সূত্র

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 09:13 AM

Updated : 30 Sep 2026, 09:13 AM

নাম তার ছাও শিকি। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মঞ্চে চীনের স্কেটবোর্ড দলের হয়ে এসেছেন তিনি। চাকা যুক্ত এই বোর্ডের উপরে উঠে উইমেন’স পার্ক ইভেন্টের হিটে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। শূন্যে ভেসে, লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে নানা কসরত মেলে ধরে নিজের হিটে তৃতীয় এবং সব হিট মিলিয়ে পঞ্চম হয়ে উঠেছেন ফাইনালে। পদকের লড়াইয়ে অবশ্য ‘ভিনি ভিভি ভিসি’র মতো এলাম, দেখলাম এবং জয় করলাম-এমন হলো না। তিনি হয়েছেন চতুর্থ। কিন্তু তার দেশ চীন যে কখনও চতুর্থ হতে ভালোবাসে না!

প্রিলিমিনারি হিটে শিকির সেরা স্কোর ছিল ৭৩ দশমিক ৪৯। এই ইভেন্টে চীনের বাকিদের মধ্যেও সর্বোচ্চ স্কোর এটি। তার পেছনে ছিলেন ১৩ বছর বয়সি মেং লিঙ্গিয়ান; ৭২ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে। ফাইনালে চার ‘রান’-এর মধ্যে চতুর্থটিতে শিকি করেন সর্বোচ্চ ৮১ দশমিক ২৩ স্কোর। তার চেয়ে একটু বেশি স্কোর (৮২ দশমিক ৮৬) নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন জাপানের ওকামোতো মিসুগু। তবু শিকি আলাদা। একটি কারণ তার বয়স!

এই ইভেন্টে সোনা জয়ী জাপানের মিজুহো হাসেগাওয়ার বয়স ১৫ বছর, রুপা জয়ী চাইনিজ তাইপের লিন ই-ফানের বয়স ১৪ বছর এবং ব্রোঞ্জ পাওয়া ওকামতো ২০ বছর বয়সি। সেখানে শিকির বয়স মাত্র ১২ বছর! এবারের আসরে আসা চীনের ৮১৫ জন অ্যাথলেটের মধ্যেও তিনি সর্বকনিষ্ঠ।

তিন ইভেন্টে সোনা জেতা ইউ জিডি (১৩), স্কেটবোর্ডিংয়ে দলে শিকির সতীর্থ ও উইমেন’স স্ট্রিট ইভেন্টে সেরা হওয়া ঝু ইউয়ানলিং (১৫), এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পাওয়া চুই চেনেশি (১৬) কিংবা এশিয়ার দ্রুততম মানবী চেন ইউঝি (১৭), ২০১৪ সালে জন্ম নেওয়া শিকি- এই কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের বেড়ে ওঠা যেন ছবি এঁকে দেখিয়ে দিচ্ছে এশিয়ার সর্বোচ্চ ক্রীড়াঙ্গনের আঙিনায় চীনের ধারাবাহিক সাফল্যের পথটা। যে পথে দেশটি হাঁটা শুরু করেছিল, ১৯৭৪ সালের আসর দিয়ে; যা ছিল এশিয়ান গেমসের সপ্তম আসর।

ওই ছয় আসরে (১৯৫১ থেকে ১৯৭০) আধিপত্য ছিল এবারের আসরের আয়োজক জাপানের। প্রতিবারই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জাপানিজদের। তেহরান (১৯৭৪) ও ব্যাংককের (১৯৭৮) আসরেও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে তারা। কিন্তু তেহরানের আসরে প্রথম অংশ নিয়ে চীনও দেখিয়ে দেয়, এশিয়ার সিংহাসন চাই তাদের। সেবার ৩৩টি সোনা, ৪৬টি রুপা ও ২৭টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে ১০৬টি পদক জেতে তারা, দলগতভাবে হয় তৃতীয়। তাদের উপরে ছিল আয়োজক দেশ ইরান। ওই আসরেই দ্বিতীয় দেশ হিসেবে জাপানের পর এক আসরে পদকের ‘সেঞ্চুরি’ করে চীন। কিন্তু তারা যে দ্বিতীয় হতেও পছন্দ করে না!

১৯৫১ সালে দিল্লির আসর দিয়ে যাত্রা শুরু হয় এশিয়ান গেমসের। ৩১ বছর পর, ১৯৮২ সালে দিল্লিতে ফেরে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতা। সেখানে সপাটে ‘ছক্কা’ মেরে দেয় চীন। সব মিলিয়ে পদকের সেঞ্চুরি করে প্রথমবারের মতো উঠে চূড়ায়। এশিয়ান গেমসে চীনের রাজত্বের শুরু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। সিংহাসনটা তারা ধরে রেখেছে আজও। টানা ১১বার দলগত সেরা হওয়া চীন এবারও ছুটছে দুর্বার গতিতে।

১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে যেবার বক্সার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথম পদক (ব্রোঞ্জ) জেতে, সেবার চীন করে পদক জয়ের ডাবল সেঞ্চুরি (২২২টি)। ওই আসরের পর থেকে এ পর্যন্ত তারাই একমাত্র দেশ, যারা এশিয়ান গেমসের প্রতিটি আসরে জিতেছে দুইশ’র বেশি পদক।

চার বছর পর প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস আয়োজন করে চীন, বেইজিংয়ে সেবার তারা করেছিল ‘ট্রিপল সেঞ্চুরি’ (৩৪১টি পদক)। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে নিজেদের মাঠে প্রথম দেশ হিসেবে গেমসের ইতিহাসে এক আসরে ‘কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি’ (৪১৫টি) করা দেশও তারা।

এরপর ২০২২ সালে হাংঝুতেও চীন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখে, কিন্তু পদকের সংখ্যা চারশতে নিতে পারেনি। গুয়াংজুর ওই সাফল্য আজও এক আসরে কোনো দেশের সেরা অর্জন। ১৯৯০ থেকে আজ অবধি তাদের সোনা জয়ের সংখ্যা কখনই একশ’র নিচে নামেনি। এবারও ইতোমধ্যে সোনার আলো ছড়ানো পদকের সংখ্যা হয়ে গেছে ১৪৩টি।

প্রতিযোগিতার ১১তম দিন শেষে (২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) পদক তালিকায় চীনের ধারেকাছেও নেই কেউ। সোনা (১৪৩টি), রুপা (৬২টি) ও ব্রোঞ্জ (৪৯টি) মিলিয়ে বর্তমানে তাদের পদক ২৫৪টি। স্বাগতিক জাপান ৪৫টি সোনা, ৭১টি রুপা ও ৬৭টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে ১৮৩ টি নিয়ে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে।

তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার মোট পদক ৯৫টি। উজবেকিস্তান ১৪টি সোনাসহ ৪৪টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ। এর বাইরে থাইল্যান্ড, বাহরাইন ও ইরান ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো দল পারেনি সোনা জয়ের ক্ষেত্রে দুই অঙ্কের ঘরে যেতে। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে এশিয়ায় সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেল চীন?

শিনহুয়া নিউজ এজেন্সির সাংবাদিক গাও পেং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিসের সঙ্গে আলাপে কিছু ধারণা দিলেন। যেগুলো মিলে যাচ্ছে শিকির মতো উঠতিদের পেশাদার অ্যাথলেট হয়ে ওঠা, চীনকে ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে নেওয়ার গল্পের সঙ্গে। শিকির বেড়ে ওঠাই যেমন বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। ছোট্ট এই মেয়েটি স্কেটবোর্ডে পা রাখে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে!

যে বয়সে শিশুরা খেলনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সে খেলার ছলে শিকি সঙ্গী করে নেন স্কেটবোর্ডকে। ২০২২ সালে 'চায়না স্কেটবোর্ড ক্লাব'-এর প্রশিক্ষণ শিবিরের নারী 'বৌল' ইভেন্টের জন্য নির্বাচিত হন। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও শারীরিক কসরত সম্পন্ন করার পর পান 'টু-স্টার অ্যাথলেট' সনদ! তাতে ক্লাবের একজন আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণার্থীর মর্যাদাও মিলে যায়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো নয়; শিকি কেবল ছুটে চলেছেন।

যে মাসে ক্লাবের খাতায় নাম উঠে শিকির, সে মাসেই তিনি 'এক্স গেমস চায়না স্কেটবোর্ডিং ইউ-পুল ট্যুর'-এর বেইজিং পর্বে নারী বিভাগে দ্বিতীয় হন। এরপর ১৬তম বেইজিং মিউনিসিপ্যাল গেমসের স্কেটবোর্ডিং প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় 'বৌল' ইভেন্টে সোনা জেতেন। সেবার চীনা গণমাধ্যমে এই ইভেন্টটি "বেইজিংয়ের রাস্তায় সীমানা ছাড়িয়ে চ্যালেঞ্জ: ২০২২ স্কেটবোর্ডিং ইউ-পুল ট্যুরে উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভা" শিরোনামে প্রচারিত হয়।

পরের বছর 'বেইজিং ইয়ুথ ইউ-সিরিজ স্কেটবোর্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ'-এ অনূর্ধ্ব-১২ বিভাগে 'বৌল' ও 'স্ট্রিট'-উভয় ইভেন্টেই বাজিমাত করে আলাদাভাবে সবার নজরে আসেন শিকি। সেবার বেইজিং মিউনিসিপ্যাল স্পোর্টস ব্যুরো তাকে 'জাতীয় প্রথম-শ্রেণির ক্রীড়াবিদ'-এর খেতাব দেয়।

২০২৪ সালেও ছুটতে থাকে ছোট্ট এই মেয়েটির সাফল্যরথ; যখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর। 'বেইজিং ইয়ুথ স্কেটবোর্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ'-এ নারী 'গ্রুপ বি' বৌল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। স্ট্রিট ইভেন্টে অবশ্য হন চতুর্থ। এ বছরই 'চায়না ইয়ুথ ইউ-সিরিজ স্কেটবোর্ডিং ট্যুর'-এর তিয়ানজিন পর্বে অনূর্ধ্ব-১২ বৌল ইভেন্টে সোনা জয় করে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখেন শিকি।

২০২৫ সালটাও তার সাফল্যে মোড়ানো। সিসিটিভি’র অনুষ্ঠান 'হিরোজ আউট অফ ইয়ুথ'-এ স্কেটবোর্ডিংয়ের কঠিন সব কৌশল মেলে ধরে নজর কাড়েন সবার। বছরের শেষ দিকে ১৫তম জাতীয় গেমসে নারী 'বৌল' ইভেন্টের সেমি-ফাইনালে ৭৯.৬৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে উঠেন ফাইনালের মঞ্চে; শেষ করেন সপ্তম হয়ে। এখানে বলে রাখা ভালো, তিনি ছিলেন ওই ইভেন্টের ফাইনালের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী!

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি 'চায়না রোলার স্পোর্টস (স্কেটবোর্ডিং) ওপেন' -এ নারী 'বৌল গ্রুপ ডি' চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হয়েছেন। যেটি ছিল একটি জাতীয় পর্যায়ের স্কেটবোর্ডিং প্রতিযোগিতা এবং এতেই প্রথমবারের মতো অলিম্পিক স্কেটবোর্ডিং ইভেন্টের নতুন স্কোরিং পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর করা হয়। এরপর তিনি জাতীয় স্কেটবোর্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপের 'বৌল' ইভেন্টে নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন। অনুমিতভাবে শিকির সামনে খুলে যায় এশিয়ান গেমসের দুয়ার।

চীন দলের বিশাল বহরে ওয়ান আন্তাও আছেন, যিনি একজন শুটার এবং দলের সবচেয়ে বয়োজ‍্যেষ্ঠ। ৪১ বছর বয়স তার। তবে হিসেবটা বয়সের নয়, স্বপ্নের। পেশাদার হয়ে ওঠার। শিনহুয়ার সাংবাদিক গাও পেং বলছিলেন, সম্প্রতি কিছু ধারণার বদলও এসেছে। এখন কেবল সরকার বা পৃষ্ঠপোষকদের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়, পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে ওঠার মনোভাব তৈরি হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের মনে। তাদের স্বপ্ন পূরণে পরিবারও দাঁড়াচ্ছে পাশে।

“কিছু তরুণ-তরুণীরা বা শিশুরা এখন তাদের পরিবারের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষিত হচ্ছে, আবার অন্যরা স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এর ফলে তাদের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়। বর্তমানে চীনের ক্রীড়া ব্যবস্থা আগের চেয়ে আলাদা। স্কেটবোর্ডিং, স্পোর্ট ক্লাইম্বিংয়ের মতো খেলাগুলোতে অনেক ক্রীড়াবিদ প্রথাগত রাষ্ট্রীয় পদ্ধতির পরিবর্তে এর বাইরে, নিজেদের মতো করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।“

“এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো টেনিস, যার অন্যতম দৃষ্টান্ত ঝেং কিনওয়েন। এই ক্রীড়াবিদরা মূলত পরিবারের সহায়তায় বেড়ে ওঠে ও প্রশিক্ষণ নেয়। সরকার সহায়তা প্রদান করলেও, অনেক সময় তারা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অধীনে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেয় না। ফলে, ক্রমশ আরও বেশি সংখ্যক ক্রীড়াবিদ পুরনো পদ্ধতির বদলে এই নতুন পথ বেছে নিচ্ছে। টেনিস, স্কেটবোর্ডিং, স্পোর্ট ক্লাইম্বিং এবং স্নুকার এর স্পষ্ট উদাহরণ।”

ক্রীড়াঙ্গনের আধুনিকায়ন, উন্নয়নে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগের পাশাপাশি অ্যাথলেট তৈরিতে স্কুলগুলোর প্রচেষ্টা, স্বদিচ্ছা ও ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে বললেন গাও পেং।

“ব্যাডমিন্টন, ফুটবল এবং বাস্কেটবলের মতো খেলাগুলোতে কিছু তরুণ প্রতিভা প্রথাগত পরিবেশের পরিবর্তে স্কুলের গণ্ডিতেই গড়ে ওঠে। যদিও স্কুলে প্রশিক্ষণ নেওয়া কয়েকজন ফুটবল খেলোয়াড় পেশাদার পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন, তবুও অধিকাংশ খেলোয়াড়ই এখনও প্রথাগত ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ নেন।

“ইতোমধ্যে চীন ১০০টিরও বেশি সোনা জিতেছে। প্রতিযোগিতামূলক সাফল্যের ক্ষেত্রে চীন এশিয়ায় একটি প্রভাবশালী ক্রীড়া শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭৪ সাল থেকে পদক তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এই সাফল্যের মূলে রয়েছে ক্রীড়া অবকাঠামো, ভেন্যু এবং জনসাধারণের শরীরচর্চার জন্য স্টেডিয়াম নির্মাণে চীনা সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ। বর্তমানে দৌড়, সাঁতার ও ব্যাডমিন্টনের মতো প্রথাগত খেলার পাশাপাশি স্পোর্ট ক্লাইম্বিং ও স্কেটবোর্ডিংয়ের মতো নতুন ধারার খেলাগুলোতেও ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে দুই হাজার সোনার পদক, সব মিলিয়ে চার হাজার পদকের মাইলফলকে পা রাখার পথে ছুটছে চীন। এই সাফল্যের পেছনে আছে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর ভূমিকাও। অ্যাথলেটদের চলার পথটা মসৃণ করার কাজগুলো তারা করে যাচ্ছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে। কঠোর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বরং ফেডারেশনগুলো সম্ভাবনাময়দের বাছাই করা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে সব ধরণের সুবিধা দিচ্ছে, বললেন গাও পেং।

“তরুণরা সবসময় খেলাধুলার ব্যাপারে খুব একটা মনোযোগী বা সিরিয়াস নাও হতে পারে, সেক্ষেত্রে ফেডারেশনগুলো তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না; বরং তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রশিক্ষণের সুবিধা এবং কোচিং ও চিকিৎসা সহায়তা দেয়। শুরুতে তরুণ ক্রীড়াবিদরা পরিবারের সহায়তা পান, তবে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তারা ফেডারেশনের সহায়তা পেতে পারেন।

“সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, বাস্কেটবল বা ফুটবলের মতো খেলাগুলোতে ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে অংশ নেওয়া বিপুল সংখ্যক শিশুর মধ্য থেকে ফেডারেশনগুলো প্রতিভাবানদের বাছাই করে। যখন এই ক্রীড়াবিদরা জাতীয় প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করেন, তখন ফেডারেশনগুলো তাদের সহায়তা দেয়, যাতে তারা পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে এবং শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এভাবেই আগামীর জন্য প্রস্তুত হয় তারা।”

আগ্রহী শিশু, কিশোর-কিশোরী, পরিবার, সরকার এবং ফেডারেশন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ: চীনের সাফল্যের চূড়ায় ওঠার সিঁড়িটা সাঁজানো এভাবেই। আর মাঠের লড়াইয়ে অভিজ্ঞতা দিয়ে ওয়ান আন্তাওরা পথ দেখাবেন। শিকি-জিডি’রা থাকবেন আগামীর তারকা হয়ে ওঠার এবং চীনকে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনের চূড়ায় পৌঁছানোর স্বপ্ন পূরণ করে দেওয়ার পাইপলাইনে।