ইতিহাস গড়ে দ. এশিয়ার বাইরে চোখ বাংলাদেশের নারী রেফারি সালমার
বাংলাদেশের প্রথম নারী রেফারি হিসেবে এএফসির এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সালমা।
ফিফার সহকারী রেফারি ছিলেন আগেই। এবার এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এএফসি) এলিট প্যানেলের রেফারি হলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে। সালমা আক্তার মনির চোখেও এখন বড় স্বপ্নের আঁকিবুকি। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশে ম্যাচ পরিচালনা করতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
এএফসির এলিট প্যানেলে অন্তুর্ভুক্ত হতে গত ১৬ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা দিয়েছিলেন নানা ধাপে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বিবৃতি দিয়ে সালমার পাস করার খবর দিয়েছে।
নেত্রোকোণা থেকে উঠে আসা সালমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথোপকথনে জানালেন অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পাওয়া দারুণ প্রাপ্তির তৃপ্তি।
“এই আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশ করার নয়। অনেক পরিশ্রম করেছি, সেই ফল পেলাম। জানেন তো, মেয়েদের জন্য এ ধরনের কাজ কতটা কঠিন। অনুশীলনের জন্যও ঠিকমতো জায়গা পাওয়া যায় না। তাছাড়া একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করি।”
২০২১ সালের অগাস্টে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও উত্তর বারিধারার মধ্যকার ম্যাচে সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। ওই ম্যাচেই তিনি গড়েছিলেন ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রথম নারী সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইতিহাস গড়েন।
এ পর্যন্ত মেয়েদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক মিলিয়ে দশটি টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন সালমা। ২৫ বছর বয়সী এই রেফারির চোখ এখন দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে।
“গত বছর মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। কদিন আগে মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে কাজ করেছি। এলিট প্যানেলে ছিলাম না বলে এতদিন দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাইনি। এখন এলিট প্যানেলে যোগ দিতে পেরেছি, ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাব।”
২০১২ সালে রেফারিং কোর্স করার পরের বছরই মেয়েদের ফুটবলে দায়িত্ব পালন শুরু করেন সালমা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ফিফার সহকারী রেফারি হন তিনি।
নেত্রোকোণায় দল না থাকায় ফুটবল সেভাবে খেলার সুযোগ পাননি সালমা। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন খেলাটির সঙ্গে থাকতেই। সেই চাওয়া থেকে রেফারিংয়ে আসা তার।
রেফারিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল স্কুলের শারীরিক শিক্ষকতা করেন সালমা।
