রাউলের অর্ধেক করতে পারলেই স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাবেন রেয়ালের ‘নতুন রাউল’
রাউল গন্সালেসের উত্তরসূরী হিসেবে খ্যাতি পেয়ে যাওয়া গন্সালো গার্সিয়া স্বপ্নময় সময় কাটাচ্ছেন ক্লাব বিশ্বকাপে।
সমর্থকরা ডাকতে শুরু করেছেন ‘নতুন রাউল’ নামে। স্বয়ং কোচ শাবি আলোন্সোও বলছেন, গন্সালো গার্সিয়াকে দেখে তার মনে পড়ছে রাউল গন্সালেসকে। এমন প্রশংসায় যে কোনো তরুণ ফুটবলারের আকাশে ওড়ার কথা। তবে গার্সিয়া পা রাখছেন মাটিতেই। রেয়াল মাদ্রিদের নতুন রত্ন বলছেন, রাউলের অর্ধেক করতে পারলেও বর্তে যাবেন তিনি।
এবারের ক্লাব বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক বলা যায় গার্সিয়াকে। এখনও পর্যন্ত যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার তিনি।
তাকে পেয়ে অনেক বছর পর এমন একজন সত্যিকারের গোলস্কোরারকে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে রেয়াল মাদ্রিদ, যে ক্লাবের ঘরের ছেলে। সবশেষ ছিলেন রাউল। ক্লাবের ইতিহাসের সেরাদের একজন তিনি। একটা সময় হয়ে উঠেছিলেন তিনি ক্লাবের প্রতীক। রেয়ালকে তখন ‘রাউল মাদ্রিদ’ বলতেন অনেকে।
তার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন গার্সিয়া। ১০ বছর বয়সে রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানেই গড়ে তুলেছেন নিজেকে। রেয়ালের ‘বি’ দল বা কাস্তিয়ার হয়ে গত মৌসুমে করেছেন ২৫ গোল। এই পারফরম্যান্সের পথ ধরে রেয়ালের মূল দলেও সুযোগ পেয়ে যান। গত ফেব্রুয়ারিতে কোপা দেল রেতে লেগানেসের বিপক্ষে রেয়ালের ৩-২ গোলে জয়ের ম্যাচে প্রথম গোলের দেখাও পান।
তবু আড়ালেই পড়ে ছিলেন অনেকটা। কিন্তু নতুন কোচ শাবি আলোন্সোর নজর কাড়েন তিনি। চোটের কারণে এন্দ্রিক যেতে পারেননি ক্লাব বিশ্বকাপে খেলতে। আলোন্সো স্কোয়াডে রাখেন গার্সিয়াকে। এরপর কিলিয়ান এমবাপের অসুস্থতার কারণে প্রথম ম্যাচে অনেকটা চমকপ্রদভাবে সেরা একাদশেও জায়গা পেয়ে যান। সেই ম্যাচে গোল করার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে।
আসরের পাঁচ ম্যাচে তার গোল চারটি, গোলে সহায়তা করেছেন একটি। শেষ ষোলোয় তার গোলেই ইউভেন্তুসকে হারিয়েছে রেয়াল, কোয়ার্টার-ফাইনালেও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে দলের প্রথম গোলটি করেছেন তিনি। তার পারফরম্যান্স এতটাই উজ্জ্বল যে, এমবাপেকেও সেরা একাদশে খেলাতে মরিয়া হননি কোচ আলোন্সো।
কাস্তিয়ায় খেলার সময় দুই বছর রাউলের কোচিংয়ে নিবিড়ভাবে নিজেকে শাণিত করেছেন গার্সিয়া। এখন লোকে তাকেই বলছে ‘ভবিষ্যতের রাউল’, ‘নতুন রাউল।’
গার্সিয়া তাতে আপ্লুত দারুণভাবে। তবে রাউলের পর্যায়ে যাওয়াটা যে অনেক দূরের পথ, সেটিও জানেন তিনি।
“সমর্থকরা আমাকে তুলনা করছেন রাউলের সঙ্গে। তিনি একজন কিংবদন্তি। এই জার্সিতে যা করেছেন, আমি যদি তার অর্ধেকও করতে পারি, তাহলেও তা হবে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু।”
২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বললেন, এতদিন ধরে এমন সুযোগের জন্যই নিজেকে আস্তে আস্তে গড়ে তুলছিলেন তিনি।
“আমি কাজ করে গেছি, অপেক্ষা করেছি সুযোগের। তবে স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি, এখানে এত কিছু হবে। কোনো চাপ অনুভব করছি না। নিজের কাজ করে যাচ্ছি। এমন সুযোগের অপেক্ষায়ই তো ছিলাম।”
“কোচ, স্টাফ ও সতীর্থরা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে শেষ দিকে দুর্দান্ত একটি গোল করেছেন বদলি নামা এমবাপে। সেমি-ফাইনালে এই তারকাকে সেরা একাদশে খেলানো হবে নাকি গার্সিয়াকে, এই নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। দুজনকে একসঙ্গে খেলানোর ফর্মেশনও বের করছেন অনেকে।
গার্সিয়া সেসব ভাবনায় যেতে চান না। এমবাপের সংস্পর্শ পেয়েই তিনি উচ্ছ্বসিত।
“কিলিয়ান এমবাপে তো… কী বলা যায়, দুনিয়ার সেরা ফুটবলার। তার সঙ্গে মাঠে নামতে পেরে, একসঙ্গে অনুশীলন করতে পেরে, তার কাছ থেকে শিখতে পেরেই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।”
ক্লাব বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে বুধবার পিএসজির বিপক্ষে লড়বে রেয়াল মাদ্রিদ।
