যখন অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন নেইমার
তার বাবা নেইমার সিনিয়র বলেছেন, চোটের আঘাত ভেঙে দিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ডের মনোবল।
একের পর এক চোটের থাবা ভেঙে দিয়েছিল নেইমারের মনোবল। সবশেষ হাঁটুর সমস্যায় পড়ার পর তো হারিয়ে ফেলেছিলেন খেলার ইচ্ছাই। ওই সময় নাকি অবসরের কথা ভেবেছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা ফুটবলার।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সময় বাঁ হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাসে চোট পান নেইমার। সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পরও কয়েক দফায় চোট থাবা দেয় তার শরীরে। তাই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি তিনি কখনোই।
সৌদি ক্লাব আল হিলালে চোট জর্জরিত অধ্যায় শেষে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার আশায় গত বছরের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। এখানেও সময়টা তার খুব আদর্শ কাটেনি। চোট হানা দিয়েছে এখানেও। জড়িয়েছেন বিতর্কে।
চোট নিয়েই গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে সান্তোসের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলেন নেইমার। একটি ম্যাচে তো হ্যাটট্রিকও করেন তিনি।
গত ২২ ডিসেম্বর নেইমারের বাঁ হাঁটুতে ছোট অস্ত্রোপচার করানো হয়। এখন তিনি আবার মাঠে ফেরার লড়াইয়ে আছেন।
সবশেষ যখন চোট পেলেন, পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে তার বাবা ও এজেন্ট নেইমার সিনিয়র বলেন, ফুটবলকে বিদায় বলে দিতে চেয়েছিলেন নেইমার জুনিয়র।
“মেনিস্কাসে চোট পায় সে, আমরা তার সঙ্গে কথা বলার আগেই গণমাধ্যমে ওই খবর ফাঁস হয়ে যায়। তখন তার মাথা কাজ করছিল না। এতকিছু সামলানো কঠিন হয়ে যায়…আমি আমার ছেলের বাসায় যাই। জিজ্ঞেস করি, ‘তো এখন তুমি কেমন আছো?”
“সে আমার দিকে ঘুরে বলে, ‘আমি আর নিতে পারছি না। অস্ত্রোপচার করে ফেলি। বাবা…আমি জানি না, অস্ত্রোপচারে কাজ হবে কিনা। যথেষ্ট হয়েছে’।”
বারবার চোটে পড়া নেইমারকে সমালোচনার তিরেও বিদ্ধ হতে হয়েছিল। ওই সময় তার পাশে দাঁড়ান বাবা। সমালোচনা কানে না নিয়ে নেইমারকে মাঠে সব কিছুর জবাব দিতে বলেন তিনি।
“আমি তাকে বলি, ‘সেরে ওঠার জন্য তুমি যদি অস্ত্রোপচার চাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি।’ পরের দিন সকালে সে অনুশীলন শুরু করে, বাঁ পায়ে ও ডান পায়ে বল মারতে থাকে...তারপর সে মাথা নেড়ে বলে, ‘আমার মনে হয় আমি এটা (খেলতে) করতে পারব’। সে খেলায় ফিরে যায় এবং গোল করে।”
আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শেষ দিকে মাঠে ফিরতে পারবেন নেইমার। এরপর তার সামনে থাকবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ।
দেশের হয়ে ১২৮ ম্যাচ খেলে রেকর্ড ৭৯ গোল করেছেন তিনি। খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপে।
