‘কথা রাখেনি’ নিউক্যাসল ইউনাইটেড, এখন কী করবেন ইসাক?
দলের তারকা স্ট্রাইকারের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা তির ছুড়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিও।
যে জার্সিতে দ্যুতিময় পারফরম্যান্সে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছেন, সেই ক্লাবের বিপক্ষেই এবার ‘ওয়াদা ভঙ্গের’ অভিযোগ করলেন আলেকসান্দার ইসাক। তাই নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, সাফ জানিয়ে দিলেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
চলতি গ্রীষ্মের দলবদল জুড়েই শোনা যাচ্ছে ইসাকের সম্ভাব্য ঠিকানা বদলের গুঞ্জন। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে খবর আসে, তাকে পেতে আগ্রহী লিভারপুল ১১ কোটি পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ফিরিয়ে দিয়েছে নিউক্যাসল। ওই ঘটনার ১৯ দিন পর যেন বোমা ফাটালেন গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ২৩ গোল করে নিউক্যাসলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তোলা ইসাক।
বিবিসি জানতে পেরেছে, যেকোনো মূল্যে নিউক্যাসল ছাড়তে চান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তার বিশ্বাস, বড় কোনো ক্লাব আরও বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিলে তবেই রাজি হবে নিউক্যাসল!
প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) মঙ্গলবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছিলেন না ইসাক, যেখানে তিনি প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা দলে জায়গা পান। পরে ইনস্টাগ্রাম বার্তায় তাকে ঘিরে চলমান গুঞ্জনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
“অনেক দিন ধরে আমি চুপ ছিলাম, যখন অন্যরা কথা বলেছে। আমার নীরবতা অন্যদের সুযোগ করে দিয়েছে তাদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করার। তারা অবশ্য জানতো যে, পর্দার আড়ালে যা বলা হয়েছে এবং যে সমঝোতা হয়েছে, তাদের কথায় এর কোনো প্রতিফলন নেই (এরপরও তারা ওইসব কথা বলত)।”
“বাস্তবতা হলো, আমাকে কথা দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক দিন ধরেই ক্লাব আমার অবস্থান জানতো। সেখানে, বিষয়টা এখনই কেবল সামনে এসেছে, এমন ভাব করাটা বিভ্রান্তিকর। ওয়াদা ভঙ্গ করা হলে বিশ্বাসটা নষ্ট হয়ে যায়, তখন সম্পর্কটা আর টিকিয়ে রাখা যায় না। আমার ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টা এখন এরকমই-তাই এখন পরিবর্তনটা সবার জন্যই ভালো হবে, কেবল আমার ক্ষেত্রে নয়।”
ইসাকের দাবি, তিনি দলবদলের ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ক্লাবকে। যদিও নিউক্যাসল তা অস্বীকার করেছে। ক্লাবের বিবৃতিতে পুরো বিষয়টিকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
“আমাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার, আলেক্স আমাদের সঙ্গে চুক্তির অধীনেই আছে এবং ক্লাবের কোনো কর্মকতা তার সঙ্গে এমন কোনো অঙ্গীকার করেনি যে, এই গ্রীষ্মেই সে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ছেড়ে যেতে পারবে।”
“আমরা আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে চাই। তবে, আমরা এটাও বুঝি যে, খেলোয়াড়দেরও নিজেদের চাওয়া আছে এবং আমরা তাদের ভাবনা শুনতে চাই।”
এবারের দলবদল শেষ হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। বাকি সময়ের মধ্যে ইসাককে পেতে লিভারপুল নতুন কোনো প্রস্তাব দেয় কিনা কিংবা অন্য কোনো দল আসে কিনা, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। আর এমন কিছু না হলে, নিউক্যাসলে ইসাকের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, সেটাও বড় এক অনিশ্চয়তা।
অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। গত শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ওই ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না ইসাক।
