বুন্ডেসলিগায় নতুন ক্লাবের রূপকথাময় অভিষেক
মাত্র ১৩ হাজার মানুষের শহরের ক্লাবটি অবিশ্বাস্য পথচলায় বুন্ডেসলিগায় উঠে আসার পর লিগ শুরু করল ইতিহাস গড়া জয় দিয়ে।
১০ বছর আগে ক্লাবটি খেলত জার্মানির চতুর্থ বিভাগে। পাঁচ বছর আগেও তাদের ঠিকানা ছিল তৃতীয় বিভাগ। ১২২ বছর পুরোনো ক্লাবটির এবার বুন্ডেসলিগায় উঠে আসা ছিল জার্মান ফুটবলের চমকপ্রদ ঘটনা। ছোট্ট শহরের সেই ক্লাব এসভি এভাসবার্ক আরও চমকে দিল অভিষেকেই। জার্মানির শীর্ষ লিগে প্রথম ম্যাচেই তারা হারিয়ে দিল জার্মান ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত শক্তি বায়ার লেভারকুজেনকে!
বুন্ডেসলিগায় শনিবার ঘরের মাঠে এভাসবার্ক ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় ২০২৩-২৪ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন লেভারকুজেনকে।
এভাসবার্ক এমনিতে অনেক পুরোনো ক্লাব। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই ১৯০৭ সালে। তবে জার্মানির বাইরে ফুটবলবিশ্বে এই ক্লাবের অস্তিত্ব খুব বেশি কারও জানা ছিল না এতদিন। জার্মান ফুটবলের কুলীন পর্যায়েই তাদেরকে কজন চিনত! তবে নিচু স্তরের লিগেই তাদের পদচারণা ছিল এত বছর ধরে।
জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থলবেষ্টিত ফেডারেল কাউন্টি জারলান্ট। সেই রাজ্যের নুয়েনকার্চেন জেলার ছোট্ট পৌরশহর স্পিজন-এভাসবার্ক। শহরের জনসংখ্যা মোটে ১৩ হাজার। এই ক্লাবের ঘরের মাঠের দর্শক ধারণক্ষমতা বরং আরেকটু বেশি (১৪ হাজার ২২১)।
২০১২-১৩ মৌসুমে ক্লাবটি চতুর্থ বিভাগ থেকে তৃতীয় বিভাগে উঠে আসে। তবে আবার অবনমন হয় পরের মৌসুমেই। অবশেষে ২০২১-২২ মৌসুমে আবার তারা তৃতীয় বিভাগে পৌঁছতে পারে। ওই বছর সেখানে টিকে গিয়ে তারা তৃতীয় বিভাগের শিরোপা জিতে নেয় ২০২২-২৩ মৌসুমে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উঠে আসে দ্বিতীয়ভাগে। গত মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে রানার্স আপ হয়ে প্রথমবারের মতো ঠাঁই পায় বুন্ডেসলিগার মানচিত্রে, একসময় যা ছিল তাদের কল্পনার সীমার বাইরে।
সেই ক্লাব অবিশ্বাস্য এক জয় দিয়ে ধরে রাখল তাদের স্বপ্নের পথচলা।
অভিষেক ম্যাচের উপলক্ষের বিশালত্ব তাদের গুটিয়ে দেয়নি, বরং উজ্জীবিত করে তোলে আরও। ৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা লুকাস পেতকোভের গোলে। পরের মিনিটেই ব্যবধান বাড়ান কোল ক্যাম্পবেল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৩-০ করে ফেলেন দাভিদ মকওয়া।
লেভারকুজেন চেষ্টা চালিয়ে যায় ম্যাচে ফেরার। ৭৭তম মিনিটে জালের দেখা পান পাত্রিক শিক। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরেকটি গোল করে তারা নাটকীয়তা ফেরায় ম্যাচে। তবে শেষ পর্যন্ত স্নায়ু ধরে রেখে ঐতিহাসিক জয়ে মাঠ ছাড়ে এভাসবার্ক।
