পঞ্চম বিশ্বকাপ, দশম বড় আসর, ‘অবিশ্বাস্য’ অনুভূতি মদ্রিচের
বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া, ৪০ বছর বয়সে আরেকটি বিশ্বকাপে খেলবেন চিরসবুজ লুকা মদ্রিচ।
সেই ২০০৬ বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। সেখান থেকে প্রতিটি বড় আসরে ক্রোয়েশিয়া দলে ছিল লুকা মদ্রিচের উজ্জ্বল উপস্থিতি। অসাধারণ সেই ছুটে চলায় এবার আরেকটি বিশ্বকাপের ঠিকানা খুঁজে পেলেন তিনি। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপেও থাকছেন চিরসবুজ এই তারকা। সেই রোমাঞ্চ আর গর্ব তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রবলভাবে।
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে ফারো আইল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুক্রবার এক ম্যাচ বকি থাকতেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়া। এই অভিযানেও যথারীতি বড় অবদান ছিল মদ্রিচের।
রেয়াল মাদ্রিদে ১৩ বছরের গৌরবময় অধ্যায় শেষ করে এই মৌসুমে এসি মিলানে পাড়ি জমিয়েছেন মদ্রিচ। ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়েও তিনি ঝলক দেখিয়ে চলেছেন। রেয়াল ছেড়ে দেওয়ার পরও ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ, আগামী বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে তৈরি রাখা। সব ঠিক থাকলে ৪০ বছর বয়সে ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যাবে ক্রোয়েশিয়ার সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে।
২০০৬ বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এরপর রাঙিয়েছেন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ। এই পথচলায় খেলেছেন পাঁচটি ইউরোতেও। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় আসরটি হবে তার পঞ্চম বিশ্বকাপ ও দশম বড় আসর।
১০ নম্বর জার্সির প্রতীক হয়ে ওঠা মদ্রিচ দারুণ উচ্ছ্বসিত তার দশম বড় আসরের হাতছানিতে।
“সংখ্যাগুলো কেমন অবিশ্বাস্য শোনায়! আশা করি, আমার স্বাস্থ্য ঠিকঠাক থাকবে এবং আমি সেখানে (বিশ্বকাপে) যেতে পারব। ‘১০’ সংখ্যাটি আমার জন্য বিশেষ কিছু। আশা করি, আমরা ভালো ফল করতে পারব।”
হাতছানি আছে তার আরেকটি বড় মাইলফলকের। দেশের হয়ে ১৯৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১৫০ ম্যাচ খেলা তারকা এবার ২০০ ম্যাচেও হতে পারেন প্রথম।
সম্ভাব্য সেই অর্জনের রোমাঞ্চও নাড়া দিচ্ছে তাকে।
“সংখ্যায় বুঁদ থাকি না আমি। তবে হ্যাঁ, ২০০ ম্যাচ খেলতে পারা হবে দারুণ। এমন কিছু জানতে পেরে ভালো লাগছে এবং জাতীয় দলের হয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছুতে গর্বিত আমি।”
নিজের সবকিছু ছাপিয়ে তিনি অবশ্য বেশি খুশি দলের আরেকটি অর্জনে। গত বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছে ক্রোয়েশিয়া, ২০১৮ আসরে হয়েছে রানার্স আপ। এই দলের জন্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া অনেকের চাখেই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে মদ্রিচ মনে করিয়ে দিলেন, এই সাফল্যও আসলে কতটা বড়।
“এই অনুভূতি অসাধারণ। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া কোনো ছোট অর্জন নয়। গত দুটি বিশ্বকাপে আমরা ভালো করেছি বলে হয়তো অনেক সময় ভুলে যাই এটা। তবে বিশ্বকাপ খেলতে পারাও সাধারণ কিছু নয়। আরেকটি বড় সাফল্য পেয়ে আমরা খুশি ও গর্বিত হতে পারি।”
