২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘পরাবাস্তব অনুভূতি’, ইন্টারকে বিদায় করে নরওয়ের ক্লাবের রূপকথা

ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের দুই লেগেই ইন্টার মিলানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল নরওয়ের ক্লাবটি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2026, 02:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

সেই ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলেছে এই চার মৌসুম আগে। তাদের ঘরের মাঠের দর্শক ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৮ হাজারের একটু বেশি। অনেকটা অখ্যাত সেই বোদা/গ্লিম্ট এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলের মানচিত্রে জ্বলজ্বলে এক নাম। ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর এবার প্লে-অফ থেকে ইন্টার মিলানকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ের ক্লাবটি।

গত আসরের রানার্স আপ ও ইউরোপের পরাশক্তি ইন্টারকে পরিষ্কার ব্যবধানেই পরাভূত করেছে বোদা/গ্লিম্ট। দুই লেগ মিলিয়ে জিতেছে তারা ৫-২ গোলে। 

প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে জিতেই কাজ এগিয়ে রেখেছিল তারা। দ্বিতীয় লেগে মঙ্গলবার ইন্টারের মাঠে জয় পায় তারা ২-১ গোলে।

প্রাথমিক পর্বে টটেনহ্যাম হটস্পার ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ড্র করে তারা। ইউভেন্তুসের সঙ্গে হেরে যায় লড়াই করে। নরওয়ের ক্লাবের জন্য এটুকুই ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। ছয় ম্যাচ শেষে তিন ড্রয়ে পয়েন্ট ছিল তাদের তিন। তবে আসল চমকের তো বাকিই ছিল। শেষ দুই ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় তারা।

তাদের সেই রূপকথার ছুটে চলা অব্যাহত থাকল প্লে-অফেও। দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় বোদা/গ্লিম্ট। ৭২তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় তারা। ইন্টার ৭৬তম মিনিটে একটি গোল শোধ করলেও আর কিছু করতে পারেনি।

বোদা/গ্লিম্টের দ্বিতীয় গোলটি করা মিডফিল্ডার হোকোন এভিয়েন ম্যাচের পর যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, “অসাধারণ এই দলটির দিকে তাকান… পরাবাস্তব অনুভূতি, অবিশ্বাস্যরকমের দারুণ। জানি না আসলে  কীভাবে কী বলব।” 

অধিনায়ক পাত্রিক বার্গ বলছিলেন,“আমাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা ও বড় প্রাপ্তি।”

কোচ শেতিল নুতসেন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন, আড়ালের অনেকের অবদানেই আজকের এই উচ্চতায় উঠেছে ক্লাবটি।

“ছোট্ট একটি শহরের ক্লাব কী করে ফেলল, বিশ্বাস করতে পারেন! অবিশ্বাস্য অর্জন…।”

“কী দারুণ এক ভ্রমণ! এটির পেছনে অনেকেই আছে, অনেকেই এটির অংশ। আমাদের এই প্রকল্পে শক্ত বিশ্বাস রেখে পথচলার সঙ্গী হয়েছেন অনেক অনেক লোকে। সবার জন্যই দিনটি অসাধারণ।”