০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নতুন রদ্রির’ খোঁজে ম্যানচেস্টার সিটি

সিটির নতুন কোচ এন্টসো মারেস্কা মনে করেন, সব শূন্যতাই একদিন পূরণ হয়ে যায়।

‘নতুন রদ্রির’ খোঁজে ম্যানচেস্টার সিটি
স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার রদ্রি। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 04:28 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

বিশ্বকাপ জয়ী রদ্রির বিদায়ে ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের অভাব পূরণে ‘নতুন রদ্রি’ খুঁজে বের করতে চান ইংলিশ ক্লাবটির নতুন কোচ এন্টসো মারেস্কা।

গত মঙ্গলবার সিটি থেকে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার রদ্রিকে দলে যোগ করে বার্সেলোনা। ২০২৪ সালের ব্যালন দ’র জয়ীর সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।

২০১৯ সালে আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ওই সময়ের ক্লাব রেকর্ড ছয় কোটি ২৮ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে রদ্রিকে দলে নেয় সিটি। দ্রুতই পেপ গুয়ার্দিওলার স্কোয়াডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।

সিটির হয়ে সাত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯৮টি ম্যাচ খেলেন রদ্রি। ক্লাবটির জার্সিতে চারটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটি এফএ কাপসহ মোট ১২টি বড় ট্রফি জয়ের স্বাদ পান তিনি।

রদ্রির মতো একজনের ক্লাব ছেড়ে যাওয়া সিটির জন্য বড়সড় এক ধাক্কা। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রোববার নতুন মৌসুম শুরু করবে সিটি। আগের দিন দলটির নতুন কোচ মারেস্কা বললেন, আরেকজন রদ্রি খুঁজে বের করতে চান তিনি। 

“আমি নতুন রদ্রি খুঁজে বের করার চেষ্টা করব- এটাই করব। রদ্রি, এখানে আসার আগে সে ব্যালন দ’র জেতেনি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি, ক্লাব বিশ্বকাপও জেতেনি। এরপর সে এই ক্লাবে যোগ দিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সব সাফল্য পেল। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন রদ্রি খুঁজে বের করা।”

৪৬ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচ মারেস্কা মনে করেন, সব শূন্যতাই একদিন পূরণ হয়ে যায়।

“যখন দাভিদ সিলভা এখানে ছিল, সবাই চিন্তিত ছিল (সে চলে গেলে কি হবে)- এরপর কেভিন (ডে ব্রুইনা) এলো। যখন সের্হিও আগুয়েরো ছিল, সবাই একই দুশ্চিন্তা করছিল- আর্লিং হলান্ড এলো। ফের্নান্দিনিয়ো যখন চলে গেল, রদ্রি এলো। বিষয়টা আসলে এমনই।

“কেউ চলে গেলে মূল কাজ হলো তাদের সঠিক বিকল্প খুঁজে নেওয়া। তারা সবাই একই- দাভিদ, কেভিন, ফের্নান্দিনিয়ো, রদ্রি, আগুয়েরো, আর্লিং। এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার, পরিবর্তনের অংশ। এটা কোনো সমস্যা নয়, স্রেফ নতুন করে শুরু করতে হবে এবং সঠিক কাজগুলো করার চেষ্টা করতে হবে।”

রদ্রি ছাড়াও এবারের দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে গেছেন বের্নার্দো সিলভা, জন স্টোন্স, ন্যাথান আকে…। সাভিনিয়ো ‘টটেনহ্যাম হটস্পারে যোগ দেওয়ার খুব কাছেই’ আছেন। এদিকে ওমার মার্মুশ ও নিকো গনসালেসের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে দলটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

গ্রীষ্মের এই দলবদলে এখন পর্যন্ত তারকা মানের খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে টেনেছে সিটি। দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আরও কয়েকজন ফুটবলার দলে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মারেস্কা। সব মিলিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন।

“আশা করি, যা করার দরকার সেসব আমরা করতে পারব। বিভিন্ন কারণে কয়েকজন খেলোয়াড় চলে যেতে চাইছে- এটা অবশ্যই আমাদের জন্য সহায়ক নয়। তবে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। যারা এখানে থাকতে চায় না, তাদের জোর করে ধরে রাখতে চাই না।

“ট্রান্সফার উইন্ডোর স্বাভাবিক বিষয়টি হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কারণ সব ক্লাবই শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ধরে রেখে চড়া দামে বিক্রি করতে চায়। এটা স্বাভাবিক, আমি এনিয়ে উদ্বিগ্ন নই। দলবদলের সময়সীমা শেষ হলে এবং চূড়ান্ত স্কোয়াড পেলে পরিস্থিতি অবশ্যই ভিন্ন হবে।”