২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

রেয়াল মাদ্রিদের ঘরের ছেলের ‘স্বপ্নের ম্যাচ’

রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা গন্সালো গার্সিয়া নতুন বছরের শুরুটা রাঙালেন ঘরের মাঠে চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jan 2026, 09:41 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে খেলতে নেমে গোল করছেন, গোটা গ্যালারি গর্জন করছে। অপার্থিব এক অনুভূতি। রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার দিনগুলি থেকেই এমন ছবি নিশ্চয়ই হৃদয়ে অনেকবারই এঁকেছেন গন্সালো গার্সিয়া। উদযাপনের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন কল্পনার চোখে। সেই স্বপ্নগুলোই সত্যি হলো এবার। শুধু একটি গোল নয়, লা লিগায় প্রথম গোল পাওয়ার দিনটি তিনি রাঙালেন স্মরণীয় এক হ্যাটট্রিকে।

লা লিগায় রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে রোববার রেয়াল মাদ্রিদের ৫-১ গোলের জয়ে চোখধাঁধানো এক হ্যাটট্রিক উপহার দেন গার্সিয়া।

তার প্রথম গোলটি ছিল বুক দিয়ে বল নামিয়ে দারুণ এক ভলিতে। পরেরটি করেন দৃষ্টিনন্দন ব্যাক ফ্লিকে। শেষটি হেড থেকে। সব মিলিয়ে বলা যায় পরিপূর্ণ এক হ্যাটট্রিক।

তার জন্ম মাদ্রিদেই, ২০০৪ সালে। ১০ বছর বয়সে পা রাখেন রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে। জায়গা করে নেন রেয়ালের যুব দলে। ২০১৮ সালে তার পরিবার মায়োর্কায় চলে গেলে তিনিও রেয়াল মায়োর্কার যুব দলে চলে যান। তবে এক বছর পরই ফিরে আসেন প্রিয় ক্লাবে। রেয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া বা ‘বি’ দলে জায়গা করে নেন। কাস্তিয়ার হয়ে গোলের রেকর্ডও করেন।

মূল দলে তার অভিষেক হয় ২০২৩ সালে। তবে স্রেফ একটু-আধটু সুযোগ মিলছিল। গত ক্লাব বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফরম্যান্সে নজর কাড়লেন। তার পরও তারকায় ঠাসা রেয়াল মাদ্রিদে নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। লা লিগায় প্রথম গোলের অপেক্ষাও বাড়ছিল।

অবশেষে নতুন বছরের প্রথম ম্যাচে প্রিয় আঙিনায় সেই অপেক্ষার শেষ হলো। গার্সিয়া তাতে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

“এই মুহূর্তে আমি খুবই খুশি। বছরের শুরুটা দারুণভাবে হলো। তিনটি গোলই স্পেশাল। মৌসুমে প্রথম গোলের দেখা পেলাম, বের্নাবেউয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক হলো।”

এই ম্যাচেও হয়তো তার মাঠে নামা হতো না, যদি কিলিয়ান এমবাপে ফিট থাকতেন। তবে রেয়ালের মতো দলের বাস্তবতা বোঝেন গার্সিয়া। ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বললেন, তার চেষ্টা থাকবে সুযোগ পেলেই কাজে লাগানোর। 

“এমবাপে এখন বিশ্বের সেরা ফুটবলার। আমাদেরকে অনেক গোল এনে দেয় সে। আমার সতীর্থরা ও কোচ আমাকে অনেক প্রেরণা জুগিয়েছে ও ভরসা রেখেছে। আমি চেষ্টা করেছি মাঠে নেমে সেরাটা দিতে।”

“আমরা জানি, রেয়াল মাদ্রিদে চাহিদা কতটুকু থাকে। আমার সামনে আছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। পরিস্থিতি আমি বুঝি, নিজেকে নিয়েই চিন্তা করি, প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করি এবং কোচ যখন সুযোগ দেন, প্রতিটি মিনিট সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।”

ক্লাব বিশ্বকাপে গার্সিয়াকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন কোচ শাবি আলোন্সোই। সেই কোচই তাকে যথেষ্ট বেশি সুযোগ দিতে পারছেন না লা লিগায়। তবে সেটা দলীয় সমন্বয়ের কারণেই। এমনিতে গার্সিয়ার প্রতিভা ও পরিশ্রমে মুগ্ধ কোচ।

“গন্সালোর অবশ্যই স্বপ্নের এক ম্যাচ কেটেছে। বের্নাবেউয়ে প্রথম মৌসুমেই দারুণ হ্যাটট্রিক করেছে।”

“গোল করতে সে মুখিয়ে ছিল। তার জন্য আমি খুবই খুশি। প্রতিটি দিন সে খুব ভালোভাবে কাজ করে। খেলার সুযোগ পাক বা না পাক, তার মানসিকতা দারুণ। মাদ্রিদের তরুণ একজন ফুটবলার কেমন হতে পারে, সেটির উদাহরণ সে। তাকে আমি অনেক শুভেচ্ছা জানাই। এই সুযোগটা তার প্রাপ্য ছিল। আশা করি, সে এটা ধরে রাখবে।” 

কোচের মতে, আধুনিক ফুটবলের দাবি খুব ভালোভাবেই মেটানোর সামর্থ্য আছে গার্সিয়ার।

“এই সময়ের ফুটবলে আসলে বল পায়ে থাকুক বা না থাকুক, পুরো সময় হিসেবেই খেলতে হয়। গন্সালো সেটা খুব ভালো বুঝতে পারে। তার গোলগুলির সঙ্গে যদি ডিফেন্সিভ সামর্থ্যও যোগ করেন, তাহলে দুর্দান্ত।”

গার্সিয়ার এই হ্যাটট্রিক মধুর সমস্যাও বয়ে আনবে কোচের জন্য। এমবাপে যখন ফিট হবে, তখন তার সঙ্গে ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো, গার্সিয়া সবাইকে খেলানো সম্ভব? 

আলোন্সো খোলাই রাখলেন সেই দুয়ার। 

“কেন নয়? এটা তো আমার সিদ্ধান্ত। মৌসুমে অনেক অনেক ম্যাচ খেলতে হয় আমাদের। আমরা দেখব সবকিছু কীভাবে এগোয় এবং আমাদের কী প্রয়োজন। কোনোকিছুই বিবেচনার বাইরে নয়।”