রংপুরে বাস ধর্মঘট: বিকল্প যানে সমাবেশের পথে নীলফামারী বিএনপির নেতাকর্মীরা
বাস ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ
রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশকে সামনে রেখে দুদিনের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে জেলা মোটর মালিক সমিতি।
শনিবার রংপুর কালেক্টরেট স্কুলমাঠে বিএনপির এ গণসমাবেশের মধ্যে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সমাবেশের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাস ধর্মঘট ডাকা হয়।
মহাসড়কে নছিমন-করিমনসহ অবৈধ্য যান চলাচল বন্ধের দাবিতে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতি এ ধর্মঘট ডাকার বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।
রংপুর থেকে ডাকা কর্মর্সূচির জেরে নীলফামারী জেলাতেও চলছে অলিখিত ধর্মঘট। এতে করে সমাবেশে যোগ দিতে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ অবস্থায় শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিকল্প ব্যবস্থায় সমাবেশের যোগ দেওয়ার পথ বেচে নিচ্ছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে নীলফামারী শহরের বাটার মোড় থেকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।
এ সময় তার বহরে সঙ্গী হন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেফাউল জাহাঙ্গীর, জেলা শ্রমিক দলের জামিয়ার রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুব উর রহমানসহ বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা।
যাত্রার আগে জহুরুল আলম বলেন, শনিবার রংপুরের গণসমাবেশে আমাদের নীলফামারী জেলার ১০ থেকে ১৫ হাজার নেতাকর্মী যাওয়ার কথা রয়েছে। রংপুরে যাওয়ার জন্য আমরা বাস, ট্রাক ভাড়া করেছিলাম। কিন্তু সরকারের বাধার কারণে এসব যানবাহন এখন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল থেকে ইজিবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল যোগে রংপুরে পৌঁছে গেছেন। এভাবে গণসমাবেশ শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যাবেন।
কোনো বাধাই নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেওয়া ঠেকাতে পারবে না দাবি করেন তিনি।
বাস ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ
হঠাৎ করে ডাকা এ ধর্মঘটের ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
তেমনি একজন ওষুধের দোকান কর্মচারী শহিদুল ইসলাম (৪৫)।
তিনি রংপুরে যাওয়ার উদ্দেশে পঞ্চগড় থেকে ট্রেনে করে সৈয়দপুরে আসেন। এখান কোনো বাস পাচ্ছেন না।
কথা হলে তিনি বলেন, “আমার বাড়ি রংপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়ায়। পারিবারিক সমস্যা থাকায় দুদিনের ছুটিতে আজ রংপুরে যাওয়ার জন্য সৈয়দপুরে এলাম। এখানে এসে শুনছি, বাস ধর্মঘট চলছে।”
তিনি আরো বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর এক হাজার টাকায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান ভাড়া করেছি।
নীলফামারীতে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলেছে
এদিকে নীলফামারী-রংপুর রুটে বন্ধ থাকলেও জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।
কার ও মাইক্রোবাস সমিতির সহ-সভাপতি মো. জাভেদ আলী বলেন, নীলফামারী থেকে কার-মাইক্রোবাস চলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে রংপুরে আন্তঃজেলা সড়কে কার গেলেও মাইক্রোবাস নিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না চালকরা।
নীলফামারী-ঢাকা চলাচলকারী নাবিল পরিবহনের প্রতিনিধি আবু আসলাম বলেন, “সকালে আমাদের কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো পার্বতীপুর হয়ে আসছে।”
জেলা সড়ক পরিবহন গ্রুপের সভাপতি মো. শাহজাহান আলী চৌধুরী বলেন “আমরা নীলফামারী থেকে কোনো ধর্মঘটের ডাক দিইনি। শুক্রবার যাত্রীর চাপ কম থাকার কারণে আমাদের অভ্যান্তরীণ রুটে বাস কম চলছে।”
