মোবাইলের জন্য কিশোর হত্যা: ১৯ বছর পর মামা-ভাগনের যাবজ্জীবন
মায়ের কেনা নকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল কিশোরের কাছে ছিল।
ভোলায় মোবাইল ফোনের জন্য কিশোরকে হত্যার মামলায় দুই প্রতিবেশীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঘটনার প্রায় ১৯ বছর পর এ মামলার রায় হলো।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শরীফ এ এম রেজা জাকের এ রায় দেন বলে জানান আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. তৈয়ব।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সুজন ও তার মামা মো. ইলিয়াস।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার মুদি দোকানে ছিলেন। তার কাছে মায়ের কেনা নকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী সুজন মোবাইলে কথা বলার কথা বলে তাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে রেদোয়ান নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে এক কিশোরের লাশ পড়ে থাকার খবর পান তারা। পরে ভোলা পৌরসভার সরকারি গোরস্থানে লাশ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রেদোয়ানের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ২৩ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
পিপি মো. তৈয়ব বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
