দুর্গাপূজা: ঝালকাঠির ১৬০ মণ্ডপে নিরাপত্তার প্রস্তুতি
নামাজের সময় পূজামণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র ও উচ্চ শব্দ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঝালকাঠিতে এ বছর ১৬০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় পূজা ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
মমিন উদ্দিন জানান, জেলার চারটি উপজেলায় ১৬০টি মণ্ডপে এ বছর দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭২টি, নলছিটিতে ২২টি, রাজাপুরে ১৯টি এবং কাঠালিয়ায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিরাপদ রাখা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। নামাজের সময় পূজামণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র ও উচ্চ শব্দ বন্ধ রাখা, মণ্ডপ ও আশপাশে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
পূজার সময় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় ঝরকাঠির পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিরোধ বরণ জয়ধর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম শাহাবুদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান এবং জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
