ঝিনাইদহে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
বকুল বিদেশ থেকে ফিরে দেখেন স্ত্রী অন্য জায়গায় বিয়ে করেছেন।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোলাডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়িতে গাছে রশি দিয়ে বেঁধে ওই যুবককে নির্যাতন করা হয় বলে মহেশপুর থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া জানান।
নির্যাতনের শিকার বকুল ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় বকুলের ভাই মুকুল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বকুল গ্রামেরই এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। বিদেশে থাকাকালে তিনি স্ত্রীর কাছে টাকা-পয়সা পাঠাতেন। এক বছর আগে বিদেশ থেকে ফিরে দেখেন স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন।
বকুল বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রী কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাইতেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে ওই পরিবারের দ্বন্দ্ব চলছিল। শুক্রবার দুপুরেও বকুল সেখানে টাকা চাইতে যান। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাকে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে লম্বা মোটা রশি দিয়ে বকুলকে গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। সেখানে নারী-পুরুষ অনেকই ছিলেন। বকুল মাটিতে পড়ে মার খাচ্ছিলেন আর বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিলেন। তাকে কোদাল, খড় কাটার কাঁচি, পিঁড়ি দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।
মহেশপুরের ওসি সেলিম বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বকুলকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ খায়রুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই পরিবারের অন্যরা পালিয়ে গেছে। তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।
