বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস আর নেই
গাইবান্ধার এই নারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বীরাঙ্গনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৮৪ বছর বয়সে উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার বেলা ৩টায় উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুলমতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। পরে তার শেষকৃত্য হয়।
এ সময় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল হক, সাদুল্লাপুর থানার ওসি (তদন্ত) হাসানুল কবিরসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফুলমতি উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার প্রয়াত কুশিরাম রবিদাস ফসিয়ারের স্ত্রী। ১৯৮৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটান তিনি।
বার্ধক্য ও নানা শারীরিক সমস্যায় দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন ফুলমতি।
তার ছেলে মনিরাজ কুমার বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিদের বাড়িতে ঢুকে তাকে নির্যাতন করে বলে জানান লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক জহুরুল কাইয়ুম।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তাকে ঘরে নির্যাতন করা হয়। হানাদাররা তার স্বামীর বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে তার সামনেই ফুলমতির ওপর নির্যাতন চালায়।”
দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চে বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি পান ফুলমতি।
সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী বলেন, “স্বীকৃতি পেতে ফুলমতিকে ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে সরকারিভাবে বীরনিবাস প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর দেওয়া হয়।”
ফুলমতির মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।
সাদুল্লাপুর গার্লস ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও লেখক হোসনে আরা মুন্সি বলেন, “ফুলমতি শুধু একজন নারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবন ও সংগ্রামের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং স্মৃতি ধরে রাখতে সমাধিস্থলে স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
