মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, ঝাড়ু মিছিল
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে উপজেলার দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেহেন্দিপুর এলাকায় ইজারা নেওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালী একটি চক্র আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
এর ফলে চর সোনারামপুর গ্রামসহ মেঘনার তীরবর্তী দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এবং বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান বলেন, “যে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেটি কিশোরগঞ্জ জেলার মির্জাপুর মৌজায়। কিন্তু ড্রেজারগুলো বাহাদুরপুর মৌজার নদীতীর থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে বালু উত্তোলন করছে। আমাদের উপজেলার সীমানা প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
“এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, পিডিবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি আশুগঞ্জ থেকে চুয়াচর, বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর, তালশহর হয়ে পানিশ্বর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দাবি, তারা যেন ইজারা নেওয়া এলাকাতেই বালু উত্তোলন করে। আশুগঞ্জ উপজেলার অংশে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।”
আন্দোলনে অংশ নিয়ে জুবায়ের হায়দার বুলু বলেন, মেঘনা নদীর ওপর দুটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতুসহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই নদীর তীরে অবস্থিত। অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও জামাল হোসেন বলেন, আশুগঞ্জ অংশে মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় একটি বাল্কহেড আটক করা হয়। পরে মালিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে ড্রেজারগুলো সীমানার বাইরে চলে যায়; তবে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
