আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে সাংবাদিকতার পাঠ নিল সাতক্ষীরার শিশুরা
দুদিনের আয়োজন শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে।
সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার ২০ জন শিশু সাংবাদিককে নিয়ে ‘হ্যালো’র উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহায়তায় দুই দিনব্যাপী একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের মধ্যে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ পরিবর্তনের সাহসী প্রত্যয় গড়ে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়।
তৃতীয় দিন শুক্রবার তারা অর্জিত প্রশিক্ষণের এর চিন্তা থেকে মাঠে নিজেরা সংবাদ নির্মাণ কাজে যুক্ত হয়।
স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে বুধবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার শিশু সাংবাদিকদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, “শিশুদের সত্য বলার সাহস শেখাতে পারলে তারাই আগামীর ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবে। এই প্রশিক্ষণ শিশুদের চিন্তা, মনন ও দায়িত্ববোধকে সমৃদ্ধ করবে।”
দুদিনের আয়োজন শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘হ্যালো’র জেলা তত্ত্বাবধায়ক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম টুটুল এবং ন্যাশনাল চিল্ড্রেন টাস্ক ফোর্সের ডিস্ট্রিক্ট প্রেসিডেন্ট ও ‘হ্যালো’র শিশু সাংবাদিক তীর্যক মণ্ডল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিশু প্রতিনিধি মায়িশা মৌনতা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজমুন নাহার বলেন, “শিশুদের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি করা গেলে তারাই আগামী দিনে সমাজের আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠবে।”
জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, “শিশু বয়স থেকেই সঠিক তথ্য চেনার অভ্যাস গড়ে উঠলে তারা কখনো গুজব বা অপসংবাদের বাহক হবে না। এই উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।”
কর্মশালার বড় একটি আকর্ষণ ছিল ‘হ্যালো’র সাংবাদিকদের প্রতীকী গাড়ির ফটোস্ট্যান্ড, যেখানে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মত।
দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আন্তর্জাতিক বিভাগের সহ-সম্পাদক তনুশ্রী বিশ্বাস। তিনি শিশুদের সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, লেখার কৌশল ও নৈতিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. শিমুল মণ্ডল। তিনি বলেন, “এই শিশুরা শুধু সাংবাদিক নয়, তারা হবে বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী ও মানবিক মানুষ। এমন প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষ অতিথি ছিলেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিলন কবির, অধ্যাপক অভিজিৎ সাহা, এখন টিভির স্টাফ রিপোর্টার আহসানুর রহমান রাজীব, আড়পাঙাশিয়া পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ জোয়ার্দার, নাগরিক টিভির সাংবাদিক কৃষ্ণ ব্যানার্জী এবং দৈনিক খবরের কাগজের সাংবাদিক জাকির হোসেন, শিশু সাংবাদিক তাসিন মাহমুদ ও উজ্জয়নী জোয়ার্দার মুমু। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজানা জোয়ার্দার।
বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিলন কবির বলেন, “শিশুদের মাঝে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও অনুসন্ধানী মনোভাব তৈরি হলে তারা সত্য অনুসন্ধানে আরও দৃঢ় হবে।”
সাতক্ষীরার শিশুদের এই কর্মশালার আয়োজন ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমধর্মী। আনন্দ, শিক্ষা ও অর্জনের সম্মিলনে সাতক্ষীরা সদরের বিনেরপোতায় অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আধুনিক ডিজিটাল ট্রেনিং হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় কর্মশালাটি। এতে স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
সমগ্র আয়োজন সম্পর্কে প্রশিক্ষক তনুশ্রী বিশ্বাস বলেন, “এই শিশুরাই আগামী দিনে যোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হয়ে ওঠবে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা মানুষের প্রতি মানবিক হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুভূতি প্রকাশ করে এবং অভিভাবকরাও শিশুদের এই ইতিবাচক যাত্রায় সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
