টানা বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরীতে হাঁটুপানি-দুর্ভোগ, ফসলের ‘পুষ্টি’
পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ধানের দানা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কয়েক দিনের খরার পর রাজশাহীতে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে আমন ক্ষেত ও সবজির জমিতে ফিরেছে প্রাণ।
তবে নগরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি নিয়ে এসেছে পুরনো জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় রোগি, তাদের স্বজন ও চিকিৎসক-নার্সদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা আজিজ উদ্দিন বাবু বলেন, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় রাজশাহীতে আমন চাষ নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন কৃষকরা। বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে জমির পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানে ফুল এসেছে। এ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ধানের দানা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এতে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে।
পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার আগাম সবজি চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি ২৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। আজকের বৃষ্টিতে সবজির অনেক উপকার হবে, পাশাপাশি সেচের খরচও কমবে।”
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নগরে হাঁটুপানি
কৃষকের মাঠে স্বস্তি এলেও টানা বৃষ্টিতে নগরজীবনে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
দুপুরে দেখা যায়, রাজশাহী নগরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে গেছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে, বর্ণালী মোড়, হেতেমখা, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যায়। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় রোগি ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এ ছাড়া পানিতে আটকা পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে পানি নেমে গেলেও দুপুর পর্যন্ত ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল।
বাগমারা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মনোয়ার হোসেন বলেন, “হাসপাতালের সামনে দীর্ঘ সময় এমন জলাবদ্ধতা গ্রহণযোগ্য নয়। রোগি, তাদের অভিভাবক; এমনকি ডাক্তার-নার্সরাও ঠিকমত চলাফেরা করতে পারছেন না।”
বর্ণালী মোড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই সমস্যা হচ্ছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। রাস্তার পানি অনেক সময় ড্রেনের ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সিটি করপোরেশনকে এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।”
এদিকে, বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ড্রেনের ময়লা আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
দুপুরে নগরীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি প্রবাহ সচল করতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম যথাযথভাবে অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই সব ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে নগর উন্নয়ন কাজ চলার কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিছনে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য হাসপাতালের সামনে কিছুটা জলাবদ্ধতা হয়েছে।
