০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সুনামগঞ্জে আপত্তির মুখে নারীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

‘স্বপ্নচূড়া স্পোটিং ক্লাব’ ও ‘জারা স্পোটিং ক্লাব’ নামের দুই দলের নারী ফুটবলারদের নিয়ে এ প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 11:44 PM

Updated : 05 Oct 2026, 11:44 PM

আপত্তির মুখে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নারীদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।

‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’ এ নিয়ে আপত্তি জানালে সোমবার বিকালের এ খেলা স্থগিত করেন আয়োজকরা।

বিকাল ৪টায় উপজেলা স্টেডিয়ামে দিরাই উপজেলার ‘স্বপ্নচূড়া স্পোটিং ক্লাব’ ও সিলেটের ‘জারা স্পোটিং ক্লাবের’ নারী ফুটবলারদের নিয়ে এই প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার রাতে বলেন, “আয়োজকরা প্রথমে বলেছিলেন, তাদের ক্লাবের কিশোরীদের খেলা। একদিন আগে প্রচার করে নারীদের খেলা।

“এ কারণে আলেম-ওলামারা প্রতিবাদ করেন। দুপুর ১২টায় খেলার আয়োজক রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া ফোন করে জানিয়েছেন তারা নিজেরাই খেলা স্থগিত করে দিয়েছেন।”

আয়োজকরা বলেন, ম্যাচটি নিয়ে তারা প্রচারও চালিয়েছিলেন। এতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দিরাই প্রেস ক্লাবের একটি অংশও যুক্ত ছিল।

কিন্তু নারীদের ফুটবল ম্যাচ খেলার মাইকিং শুনে রোববার রাতে ‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র নামে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকারের সঙ্গে দেখা করে ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগ তুলে খেলা বন্ধের আহ্বান জানান।

খেলা যাতে অনুষ্ঠিত না হয় সেজন্য তারা প্রচারও চালান এবং পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেন। যার ফলে খেলা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন আয়োজকরা।

আয়োজক রাকিব আহমেদ ভূইয়া বলেন, সোমবার দুপুরে তিনি পুলিশের সঙ্গে ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে খেলার বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, খেলা স্থগিত করতে।

তাই বাধ্য হয়েই তিনি নিরাপত্তার শঙ্কায় খেলা স্থগিত করেছেন বলে জানান।

খেলা বন্ধের দাবি জানানো শরিফুল ইসলাম ‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির’ উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “আয়োজক একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তিনি নারী ফুটবলের নামে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ করেন। এ কারণে স্থানীয় পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ খেলা বন্ধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে অবগত করেন।”

এ ব্যাপারে দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “কিছু ইসলামিক দলের লোকজন খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। আমরা আয়োজককে খেলা পরিচালনার কথা বলেছিলাম এবং নিরাপত্তা প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছিলাম।

“কিন্তু আয়োজক নিজেই খেলা পরিচালনা করেননি। তিনি নিজেই খেলা স্থগিত করে দিয়েছেন।”