২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ ফরাজি ২০ বছর পর ফিরলেন পরিবারে

২০০৫ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গাজীপুরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে ফরাজি নিখোঁজ হন বলে জানান স্বজনরা।

মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ ফরাজি ২০ বছর পর ফিরলেন পরিবারে
ভোলার চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানা এলাকার নংলাপাতা গ্রামে নিজ বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে বসে আছেন সালাউদ্দিন ফরাজি (মাঝের ব্যক্তি)।

ভোলা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2025, 10:32 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গাজীপুরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন ৪৫ বছর বয়সি সালাউদ্দিন ফরাজি। এরপর কেটে গেছে ২০ বছর। স্বজনরা ধরেই নিয়েছিলেন তিনি আর ফিরবেন না।

অবশেষে ২০ বছর পর খোঁজ মিলেছে ৬৫ বছরের ফরাজির। গত ১৬ জুলাই নিজ গ্রামে পরিবারের কাছে ফিরেছেন পাঁচ সন্তানের এই জনক।

ফরাজি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানা এলাকার নংলাপাতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রয়াত জয়নাল ফরাজির ছেলে।

ফরাজির পরিবারের সদস্যরা জানান, কাজের জন্য স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান ফরাজি। তিনি রিকশা চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ যোগাতেন। ২০০৫ সালের দিকে ফরাজির তার মেজ মেয়ের বাসা গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে নিখোঁজ হন তিনি। 

ফরাজির সন্ধান চেয়ে পরিবারের লোকজন বহু চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাননি। স্বজনরা ধরেই নিয়েছিলেন হয়ত তিনি আর জীবিত নেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দুই দশক পর নিজের বাড়ি ফিরলেন ফরাজি। বৃদ্ধ বয়সেও ফরাজি চিনতে ভুল করেননি পরিবারের লোকজনকে। তাকে ফিরে পেয়ে খুশি স্বজনরাও। 

ফরাজির বড় মেয়ে রেখা বেগম বলেন, তার বাবা যখন নিখোঁজ হন, তখন তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন। মেজ বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর তারা গাজীপুরে বসবাস শুরু করেন। ২০০৫ সালে দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। বাবা মেজে বোনের বাসায় বেড়াতে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকেই তার বাবা নিখোঁজ। তারা ভেবেই নিয়েছেন হয়ত বাবা আর বেঁচে নেই।

তিনি বলেন, “গত ১৬ জুলাই চরফ্যাশন উপজেলার মায়া ব্রিজ এলাকায় কিছু লোক বাবাকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। স্থানীয়রা ভেবে নিয়েছেন উনিই ফরাজি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাবাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।”

রেখা বেগম বলেন, তার বাবা এখন কথা বলতে পারছেন না। অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। তবে বাবাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সবাই। 

“ফিরে পাওয়া বাবাকে নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পুলিশ বাবা ও আমাদের ডিএনএ পরীক্ষা করবেন,” বলেন তিনি।

ফরাজির স্ত্রী মাসুমা বলেন, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে বহু কষ্টে দিন পার করেছেন তিনি। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের আগলে রেখেছেন। তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার আগে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে বাসায় রেখে অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন তিনি।

মাসুমা বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর স্বামীর অপেক্ষায় ছিলাম। ভেবেছি স্বামী বেঁচে থাকলে কোনো এক সময় ফিরে আসবেন। আবার কখনো মনে হয়েছিল সে হয়ত বেঁচে নেই।”

স্বামীকে ফিরে পেয়ে তাকে নিয়ে বাকি জীবন পার করতে চান মাসুমা বেগম।

বুধবার বিকালে শশীভূষণ থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, ফরাজির মেয়ে রেখা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে নিখোঁজ ফরাজি তার বাবা কি-না তা শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এরপর শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।