তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
এর আগে দুপুরে তোলারাম কলেজের সামনের সড়কে সংঘর্ষে জড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ছাত্ররা এ ঘটনার জন্য ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।
বুধবার বিকালে শহরের ইসদাইর এলাকার ‘শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে’ এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানান তারা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে দুপুরে তোলারাম কলেজের সামনের সড়কে সংঘর্ষে জড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
বিকালের হামলায় শিকার হন ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে নেতাকর্মীদের পাশাপাপশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ।
তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ট্যাব লুট করে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সগির হোসেন বলেন, “আজকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলে প্রবেশ করে আমার রুম ভাঙচুর করে এবং মূল্যাবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
“আমার ল্যাপটপ নিয়ে গেছে, আমার পাশের রুমের এক ভাইয়ের থেকে ট্যাব নিয়ে গেছে। এনআইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট নষ্ট করে ফেলেছে।”
আরেক শিক্ষার্থী শরীফ আবদুল্লাহ বলেন, “আমি গণিত বিভাগের ছাত্র। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চুক্তিভিত্তিক ট্র্যাফিক কর্মী হিসেবে কাজ করি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না।
“কিন্তু বিকালে ছাত্রদল নেতা অনিক আমার কক্ষে প্রবেশ করে বলেন, আমি এনসিপি করি, আমি ছাত্রশিবির করি। এসব বলে আমাকে বেল্ট দিয়ে মারধর শুরু করেন।”
তিনি বলেন, “আমার একটি ট্যাব, দুটি মোবাইল, মানিব্যাগ ও বিছানার নিচে রাখা হল ফি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমার দাদা গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতি করেও ছাত্রদলের ছেলেরা আজকে আমাকে শিবির আখ্যা দিয়ে মেরেছে।”
তবে এ বিষয়ে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, “শিবিরের একটি ফেইসবুক গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপে যারা যুক্ত আছে তারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালায়। তাদের ফোন চেক করে সেগুলো সাময়িক জব্দ করে পরবর্তীতে হল সুপারের কাছে দিয়ে এসেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়নি।”
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছি। সেই সঙ্গে তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিবে।”
তদন্ত কমিটি প্রধান হলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আজিজুল্লাহ। বাকি দুইজন সদস্য হলেন- অধ্যাপক মনোয়ার হোসাইন এবং অধ্যাপক হুমায়ুন কবির।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে এলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অধ্যক্ষ।
দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবির ফতুল্লা থানায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
