২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বর্ণমালা লিখতে না পারায় শিক্ষকের চড়-থাপ্পড়ে ছাত্রী অজ্ঞানের অভিযোগ

বান্দরবানের গজালিয়া ইউনিয়নে বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বর্ণমালা লিখতে না পারায় শিক্ষকের চড়-থাপ্পড়ে ছাত্রী অজ্ঞানের অভিযোগ
বান্দরবানের লামা থানা।

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Apr 2026, 09:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বর্ণমালা লিখতে না পারায় শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে অজ্ঞান করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

বুধবার সকালে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, “শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি তার অভিভাবক অবগত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলম দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” 

নির্যাতনের শিকার রেশমি ত্রিপুরা (৬) বোচাপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী এবং নিমজন্দ্র মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা রজনী ত্রিপুরার মেয়ে। 

এ ঘটনার পর শিশুটির মায়ের প্রতিবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। 

স্কুলের শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ক্লাস চলাকালীন রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন শিক্ষক ফরিদুল আলম। লিখতে না পারায় তাকে সঙ্গে সঙ্গে জোরে চড়-থাপ্পড় মারেন তিনি। শিশুটির কান্নার শব্দ যাতে বের না হয় তার জন্য মুখ চেপে ধরেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক পর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঘটনার প্রমাণ লোপাট করতে সিসিটিভি ভিডিও গায়েব করে দেওয়া হয়। অজ্ঞান অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানায়।

পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অফিসের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা ফরিদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। 

এ নিয়ে শিশুটির মায়ের স্কুলে এসে প্রতিবাদ ও কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

৫৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে স্কুলে শিক্ষকদের কক্ষে গিয়ে আতর্নাদ করে বলছেন, মরাধর করায় তার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। মাথায় পানি দেওয়ার পরও জ্ঞান ফেরে না। জ্ঞান ফেরার পর মাকে পর্যন্ত চিনতে পারছে না। তারা এই শিক্ষককে স্কুলে আর দেখতে চান না। আরও অনেক শিক্ষার্থীর এভাবে ক্ষতি করবে।

ভিডিও দেখা যায়, এভাবে মেয়েকে মারধরের কারণ জানতে চান মা। কিন্তু স্কুলের কোনো শিক্ষককে কিছু না বলে বসে থাকতে দেখা যায়। 

এ বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। 

সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা বলেন, “শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি সবাই যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন, আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”