বাগেরহাটে চার সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে চলছে হরতাল, ভোগান্তি
“এই আন্দোলনেও যদি সরকারের টনক না নড়ে তাহলে আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন অফিসের কোনো কার্যক্রম করতে দেব না।”
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রতিবাদে হরতাল পালন করছে 'সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি'।
সোমবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
হরতালের কারণে দূরপাল্লার বাসসহ জেলার সব অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল এবং সব হাটবাজারে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
সকালে হরতাল শুরুর পর বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাড়ি, গাছের গুড়ি ও বেঞ্চ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি না থাকায় বিভিন্ন সড়ক ফাঁকা দেখা গেছে।
এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি আসন পুনর্বহালের দাবিতে হরতালসহ পাঁচ দিনের নানা কর্মসূচি ঘোষণা করে। একদিন বাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘন্টার হরতাল পালন করার কর্মসূচিও রয়েছে তাদের।
জামায়াত ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও সর্বদলীয় কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “নির্বাচন কমিশন ঐতিহ্যবাহী জেলা বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি বাদ দিয়ে তিনটি করে হঠকারী একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যা বাগেরহাটবাসী মানতে নারাজ।”
বাগেরহাটের চারটি আসন ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১, সদর ও কচুয়া নিয়ে বাগেরহাট-২ রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ এবং শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসন ছিল।
এখন বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট নিয়ে বাগেরহাট-১ ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-২ এবং শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও কচুয়া নিয়ে বাগেরহাট-৩ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর এম এ সালাম বলেন, “নির্বাচন কমিশন অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে কেটে একটি বাদ দিয়েছে। তার প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি পালন করছি।
“আমাদের এই নায্য দাবি না মেনে নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এই আন্দোলনেও যদি সরকারের টনক না নড়ে তাহলে আগামীতে স্থানীয় নির্বাচন অফিসের কোনো কার্যক্রম করতে দেব না।”
সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনও করতে দেওয়া হব না বলেও হুঁশিয়ারি দেন এ নেতা।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, “বাগেরহাটের সঙ্গে আশেপাশের জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। অফিস আদালতে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-বাজারে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
“বাগেরহাটবাসী এই হরতালে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এরপরেও যদি নির্বাচন কমিশনের টনক না নড়ে তাহলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।”
তবে হরতালের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে সাধারণ যাত্রীরা জানিয়েছেন।
বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী আশিকুর রহমান বলেন, “খুলনায় জরুরি চিকিৎসার জন্য যেতে হবে। বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো যানবাহন চলছে না। হরতালের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছি।
“বাগেরহাটবাসী যে কারণে হরতাল পালন করছে তা সরকারের মেনে নেওয়া উচিত। দাবি মেনে নিয়ে আমাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেক।”
আরেক যাত্রী মনিরা বেগম বলেন, “আমি খুলনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। নিয়মিত আমাকে খুলনায় যেতে হয়। কয়েকদিন আগে অবরোধে আটকা পড়েছিলাম। এখন আবার একই অবস্থা।
“সরকার হঠাৎ হঠাৎ এমন এমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে যা মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ শুরু হয়েছে। জেলার সব রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে।
