বরিশাল মেডিকেলে অক্সিজেন মাস্ক ‘খুলে ফেলল’ কর্মচারী, রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
“অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোন মারা যায়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন,” অভিযোগ মৃতের ভাইয়ের।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রলি নিয়ে যাওয়ার জন্য এক কর্মচারী সেখানে থাকা এক রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললে শ্বাসকষ্টে সেই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটে কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।
মৃত দিপালী সিকদার (৪০) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী।
দিপালীর ভাই মিলন হালদার বলেন, শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেলা ৩টায় বোনকে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে টানা দুই ঘণ্টা অক্সিজেন দিয়ে রাখার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের ‘অব্যবস্থাপনার’ কারণে একটি ট্রলিতে রেখে দিপালীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।
তার অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন তখন মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন। পাশের এক রোগীর স্বজনরা ট্রলি নেওয়ার জন্য সোহেলকে ২০০ টাকা দেয়।
“টাকার লোভে অন্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা হাত-পা ধরলেও সে শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোন মারা যায়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিপালীর মৃত্যুর পর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মচারী সোহেলের উপর চড়াও হয়। এ সময় তারা সোহেলকে মারধর করলে অন্য কর্মচারীরা এসে তার পক্ষ নেয়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আনসার সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন বলেন, “রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে বেদম মারধর করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করি এবং তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। রোগীটি আগে থেকেই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।”
এ ঘটনার পর কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন।
দিপালীর পরিবার এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, তিনি ঘটনা জানেন না। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
