সিলেট বোর্ডে কমেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী
গত বছর আটো পাশ দেওয়ার কারণে সব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী কমেছে, বলেন বোর্ড চেয়ারম্যান।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। গেল বারের চেয়ে এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ১৩ হাজার ৪৮২ জন।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “মূলত গত বছর আটো পাশ দেওয়ার কারণে সব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী কমেছে। গত বছরে পাশের হারও বেশি ছিল, যার কারণে পরীক্ষার্থী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের ছাত্রদের বিদেশ গমনে অতি আগ্রহ রয়েছে।”
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ এবং একটি করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।
বোর্ডগুলোর অধীনে বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য মতে, এবার এ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন। গত বছর ছিল ৮৩ হাজার ১৬৫ জন। ২০২৩ সালে সিলেট বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৩ হাজার ১২৩ জন।
এবারের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ২৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং মেয়ে সংখ্যা ৪১ হাজার ৮১৫ জন।
এবার ৮৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে; গত বছর কেন্দ্র সংখ্যা ছিল ৮৭টি।
গত বছর ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও এবার ৩২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
বোর্ডের তথ্য বলছে, জেলাওয়ারি পরীক্ষার্থীর মধ্যে সিলেটে রয়েছে ৩১ হাজার ৫১ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ হাজার ১৪৯ জন, সুনামগঞ্জে ১২ হাজার ৭০০ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ হাজার ৭৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হায়াতুল ইসলাম আখঞ্জী বলেন, “এক বছরের ব্যবধানে ১৩ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমে যাওয়া সিলেটবাসীর জন্য উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও কলেজগুলোকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
না হলে শিক্ষার মান ও বোর্ডের ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবারের মত এবারো সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সব প্রস্তুতি রয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। রুটিন অনুযায়ী যথারীতি পরীক্ষাগুলো চলবে।”
এইচএসসি পরীক্ষায় গত বছর চমক দেখিয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের অধীনে ৮৩ হাজার ১৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছেন ৭১ হাজার ১২ জন। পাশের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
প্রথমে বন্যা ও পরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসির সবগুলো বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছু বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।
বাতিল পরীক্ষাগুলোর নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে (বিষয় ম্যাপিং করে)।
