২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে সড়কে পড়েছিল স্বাস্থ্য সহকারীর রক্তাক্ত লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা

তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের ফুফাতো বোনের ছেলে।

টাঙ্গাইলে সড়কে পড়েছিল স্বাস্থ্য সহকারীর রক্তাক্ত লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা
আউয়াল শফী টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী ছিলেন।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 09:00 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সড়কের পাশে থেকে এক স্বাস্থ্য সহকারীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তার মোটরসাইকেলটি অখ্যাত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করেছেন।

বুধবার দুপুরে উপজেলার নলুয়া-বাসাইল সড়কের বাছেত খান উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে সখীপুর থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন। 

নিহত ৪৫ বছর বয়সি আউয়াল শফী উপজেলার বোয়ালী গ্রামের প্রয়াত মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের ফুফাতো বোনের ছেলে।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পাশাপাশি তিনি আওয়ালের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় আওয়ালের স্বজনরা মন্ত্রীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। 

তারা দাবি করেন, দুর্ঘটনায় মারা গেলে গলায় কাটা দাগ কোথা থেকে এল। এ ছাড়া আওয়ালের সঙ্গে অনেকের বিরোধ ছিল। পরে সখীপুর থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। 

পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে শফীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। তার মাথার মগজের কয়েকটি অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া শফীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও পাশে পড়ে ছিল। অজ্ঞাত কোনো যানবাহনের চাপায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে স্বজনদের দাবি, সড়কে শফীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকলেও পাশে তার মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল। 

তবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলতে পারছে পুলিশ।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শফীর চাচাতো ভাই জিয়া হাবিব ও ফরিদ উদ্দিন বলেন, লাশের গলা ও মাথার অবস্থা দেখে ঘটনাটি সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। তাদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “নিহতের মাথার মগজের তিনটি অংশ তিন জায়গা থেকে কুড়িয়ে একত্র করেছি। দ্রুতগতির কোনো যানবাহনের আঘাতে এ রকম হয়ে থাকতে পারে। তাই প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাই মনে হচ্ছে।”

ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।