০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাবির জাহানারা ইমাম হলে রাত ১১টার মধ্যে প্রবেশের নির্দেশ, প্রতিবাদ

এমন সিদ্ধান্তকে ‘সান্ধ্য আইন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট।

জাবির জাহানারা ইমাম হলে রাত ১১টার মধ্যে প্রবেশের নির্দেশ, প্রতিবাদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 05:35 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হলে ছাত্রীদের রাত ১১টার মধ্যে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ও নারী নিরাপত্তা মঞ্চ।

বুধবার জাহানারা ইমাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হল সংসদের পঞ্চম সভার সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে রাত ১১টার মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত ১১টার পর কোনো ছাত্রী হলের বাইরে যেতে পারবেন না। এ সময় হলের মূল প্রবেশপথে তালা দেওয়া হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে রাত ১১টার পর হলে প্রবেশের প্রয়োজন হলে গার্ডরুমে সংরক্ষিত রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ও নারী নিরাপত্তা মঞ্চ।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে শুক্রবার এক সংবাদ বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট এ সিদ্ধান্তকে ‘সান্ধ্য আইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ কোনো সমাধান নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ সড়ক ও পথ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, কার্যকর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবহন ও দায়িত্বশীল প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “নারীর নিরাপত্তার সমাধান নারীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ নয়।” একজন নারী শিক্ষার্থী কখন হলে ফিরবেন, কোথায় যাবেন বা ক্যাম্পাসে কতক্ষণ অবস্থান করবেন- তা নির্ধারণের অধিকার প্রশাসনের নয় বলেও মন্তব্য করে সংগঠনটি।

একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানায় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট।

সংগঠনটি অবিলম্বে জাহানারা ইমাম হলে সান্ধ্য আইন প্রচলনের নোটিস প্রত্যাহার এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে আবাসিক হলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে শুক্রবার দেওয়া আরেক বিবৃতিতে নারী নিরাপত্তা মঞ্চ জাহানারা ইমাম হলে রাত ১১টার মধ্যে ছাত্রীদের প্রবেশ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে ‘নারীবিদ্বেষী সান্ধ্য আইন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, রাত ১১টার পর হলের মূল ফটকে তালা দেওয়া, বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা এবং জরুরি প্রয়োজনে গার্ডরুমের রেজিস্টারে কারণ লিপিবদ্ধ করার বিধান শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল।

নারী নিরাপত্তা মঞ্চের অভিযোগ, নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ‘পিতৃতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের’ একটি রূপ। সংগঠনটি দাবি করেছে, হল সংসদের ভোট ও নারী শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৪ সালে জাহানারা ইমাম হলে এবং ২০১৮ সালে একযোগে ছাত্রী হলগুলোতে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সেসব উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

নারী নিরাপত্তা মঞ্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাহানারা ইমাম হলে আরোপিত ‘সান্ধ্য আইন’ প্রত্যাহার, প্রভোস্টের কথিত ‘নারী বিদ্বেষী‘ বক্তব্যের জবাবদিহি, ছাত্রী হলগুলোতে এ ধরনের বিধিনিষেধের পরিকল্পনা বাতিল এবং ২০১৮ সালের অধ্যাদেশের দমনমূলক ও প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে এমন বিধান সংস্কার।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ, প্রবেশদ্বার সংস্কার, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ ও জরুরি হটলাইন চালু এবং সাইবার নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

নারী নিরাপত্তা মঞ্চ বলেছে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতার দায় নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা সীমিত করে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।