০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ্মায় চ্যানেল চার্জ আদায় নিয়ে হামলা, যুবদল নেতাসহ আহত ১১

“৩০ থেকে ৩৫ জন এসে প্রথমে আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা যুবদলের মুকুলকে খুঁজতে থাকে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 07:02 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলায় ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার দুপুরে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হড়িনা ঘাট ও বয়ড়া ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকার মাঝ পদ্মায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন।

আহতদের উদ্ধার করে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়া ১১ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার অর্পিতা সাহা জানিয়েছেন।

গুরুতর আহত হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান অভিযোগ করেন, “পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের সময় তিনটি স্পিডবোটে করে কয়েকজন সেখানে আসে। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ঘিরে ফেলে।”

পরে হেলমেট ও মাস্ক পরা ৩০ থেকে ৩৫ জন হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করেন আবিদুর।

আহত জীবন চৌধুরী সজল বলেন, “৩০ থেকে ৩৫ জন এসে প্রথমে আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা যুবদলের মুকুলকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।”

তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সজল। এ সময় তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।

হামলায় আহত শাহ আলম, নাসির, লোকমান, মিনার চৌধুরী, সাদ্দাম হোসেন, মো. শামিম ও সুজন হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

গুরুতর আহত উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন সেতু, হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান এবং আন্ধারমানিক গ্রামের আলী আজমকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অর্পিতা সাহা বলেন, আহত অবস্থায় ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে এক্স-রে করানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ওসি আফজাল হোসেন বলেন, “পদ্মা নদীতে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”