২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় বাউলভক্ত দম্পতিসহ ৩ জনকে পিটিয়ে জখম

দুবছর পর একই কায়দায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক বাউল আখড়ায় তিন ভক্তকে পিটিয়ে জখম করেছে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন যুবক।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jul 2016, 02:59 PM

Updated : 20 Aug 2022, 01:13 PM

শনিবার গভীর রাতে একতারপুর গ্রামের এ হামলা হয় বলে জীবননগর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান।

আহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শহরদা গ্রামের আবদুর রহিম (৬৫) ও তার স্ত্রী বুলু খাতুন (৫০) এবং ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের রুশিয়া খাতুন (৪৫)। তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদরের আকন্দবাড়িয়া গ্রামে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বাউল উৎসবের আয়োজক জাকারিয়া সরদারকে। ওই হত্যার পর দুদিনের সেই উৎসব বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর গত ২০ মে কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নের শিশিরপাড়া মাঠ এলাকায় বাউল ভক্ত হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক মীর সানোয়ার রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই হামলায় তার বন্ধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান গুরুতর জখম হন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাসুদ রানা বলছেন, ওই তিনজনকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তাছাড়া রহিমের মাথায় ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রুশিয়ার বাঁ পায়ে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বুলুর পায়ের জখম গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে এই চিকিৎসক জানান।

আহত বুলু ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাত ১টার দিকে হঠাৎ সাত-আট জন যুবক আখড়ায় এসে লোহার রড দিয়ে তাদের পেটাতে শুরু করে। পরে তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এলে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা পরে তাদের ভ্যানে তুলে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

হামলার সময় আখড়ায় তারা তিনজনই ছিলেন এবং হামলাকারী কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানান বুলু।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন এলাকার লালনভক্তরা ওই আখড়ায় আসে। আমরাও গিয়েছিলাম।”

আখড়ার মালিক মুকুল হোসেনও লালন ভক্ত। তিনি আখড়ার পাশে বাড়িতে থাকেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শনিবার রাতে আখড়ায় অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান চলে রাত ১০টা/১১টা পর্যন্ত। এরপর লোকজন চলে গেলে ৩/৪ জন ছিল। তিনিও নিজ ঘরে চলে যান।

রাত ১টা/দেড়টার দিকে চিৎকার শুনে তিনি ছুটে আসেন বলে জানান।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “ওই আখড়ায় গাঁজার আসর বসে। ঘটনা শুনে আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”  

ঠিক একই ধরনের হামলা দুই বছর আগে একবার হয়েছিল বলে জানালেও বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি তিনি।

এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। আখড়ার লোকজন মামলা করলেও পুলিশ করবে বলে জানান ওসি।

চুয়াডাঙ্গার এসপি রশীদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ আখড়ায় গাঁজার আসর বসে। এ কারণে এ হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।