ফরিদপুর মেডিকেলে সাংবাদিকদের খবর সংগ্রহে বাঁধা, নিতে হবে ‘অনুমতি’
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো নির্দেশনাপত্র বা নোটিশ দেখাতে পারেনি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক কর্তৃপক্ষের বাঁধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা ওই সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল এলাকায় কোনো ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা যাবে না।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো নির্দেশনাপত্র বা নোটিশ দেখাতে পারেনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন- আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন।
হাসান মাতুব্বর শ্রাবণ বলেন, রোববার দুপুর ২টার দিকে তারা হাসপাতালটির নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে সংবাদ সংগ্রহে যান। এ সময় আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে ক্যামেরা বের করলে দৌড়ে এসে এক আনসার সদস্য বাধা দেন। এরপর তিনি চিকিৎসক তোফাজ্জ্বল হোসেনকে ডেকে আনেন।
“ওই চিকিৎসক এসে নিজেকে দায়িত্বরত রেজিস্ট্রার হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে ভিডিও ধারণ করা নিষেধ।”
তিনি বলেন, “পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পরিচালকের কার্যালয়ে গেলে তিনি ঢাকায় আছেন বলে জানানো হয়। এরপর উপ-পরিচালক মানব কৃষ্ণ কুণ্ডুর কাছে গেলে তিনিও অনুমতি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পরিচালক স্যার ছাড়া আমরা কিছু বলতে পারব না।”
এমন নিয়মের বিষয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবিরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান বলেন, “আমার জানা মতে, ভিডিও করার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা জারি করা হয়নি। তবে গবেষণার কাজে কোনো তথ্য-উপাত্ত নিতে হলে সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।”
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের নিয়মে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ, জেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও ফরিদপুর প্রেস ক্লাব।
ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, “এভাবে তো সাংবাদিকতা করা যাবে না। ইচ্ছামত নিয়ম করে সংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতাল তো স্বাস্থ্য ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি তো রাষ্ট্রের গোপনীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নয় যে অনুমতি নিতে হবে।”
ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। যেখানে অন্ধকার সেখানে আলো ফেলানো সাংবাদিকদের কাজ। একটি স্বাধীন দেশের হাসপাতালে সাংবাদিকরা কাজ করতে পারবেন না- এটা কালাকানুন।
“আমার জানা মতে, এ জাতীয় নিয়ম বাংলাদেশে নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেটি করেছে সে বিষয়ে নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।”
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায় বলেন, “সংবাদ মাধ্যম বা সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা থাকা উচিত। আমরা মুখে স্বাধীনতার কথা বলি কিন্তু বাস্তবে হয় না। হাসপাতালে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত কাজ করে থাকেন, এমন নিয়ম করা আসলেই নিন্দনীয়।”
ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “এমন বাধা মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায় এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার কৌশল। এ ধরনের আইন করে থাকলে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
