চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা দেখার অভিযোগে শিক্ষককে ‘অব্যাহতি’
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক দাবি করেন, উত্তরপত্রগুলো আগেই মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার তার কর্মস্থল মেট্রো সিটি উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ মাজহারুল হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “ঘটনা জানার পর সকালে গভর্নিং বডির জরুরি সভা করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে এবং তাকে অব্যাহতির চিঠি দেওয়া হয়েছে।”
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান কলেজটির পূর্ণকালীন প্রভাষক ছিলেন। তিনি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শনিবার রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসে তিনি এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুও খাতা মূল্যায়ন করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে প্রায় ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, উত্তরপত্রগুলো আগেই মূল্যায়ন করা হয়েছিল। কুরিয়ারে পাঠানোর আগে তিনি শুধু সেগুলো গুছিয়ে নিচ্ছিলেন।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা বোর্ড তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।”
আরও পড়ুন:
