পাবনায় দণ্ডিত আসামিকে বিএনপির পদ দেওয়ার প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল
চেক প্রতারণার মামলায় এক বছরের সাজা ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা হওয়ার ১০ দিনের মাথায় বিএনপির পদ পেয়েছেন সুমন।
চেক প্রতারণার মামলায় দণ্ডিত এক আসামিকে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদ দেওয়ার প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল হয়েছে।
ঈশ্বরদী শহরে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সোমবার সন্ধ্যায় এ মিছিল করেন।
মিছিল থেকে ইমরুল কায়েস সুমনের পদ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় ৬ অগাস্ট পাবনার প্রথম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম সারওয়ার জাহান ইমরুল কায়েস সুমনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে ছিলেন না।
পাবনার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম সারোয়ার খান বলেন, রায়ের পর ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের এ রায়ের ১০ দিনের মধ্যে, ১৬ অগাস্ট ইমরুল কায়েস সুমনকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদে মনোনীত করা হয়।
স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দণ্ডিত ও পলাতক থাকা অবস্থায় তাকে দলীয় পদ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা ঝাড়ু মিছিল করেছেন।
জাকারিয়া পিন্টু বলেন, আদালতে দণ্ডিত একজনকে দলীয় পদ দেওয়ার প্রতিবাদে তারা মিছিল করেছেন। তিনি এই পদায়ন বাতিলের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ইমরুল কায়েস সুমন বলেন, বাদীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। মামলার তারিখ তার বা তার আইনজীবীর মনে ছিল না। এ কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি এবং তার অনুপস্থিতিতে রায় হয়েছে। রায়ের বিষয়টিও তিনি পরে জানতে পারেন বলে দাবি করেন।
বিষয়টি আইনগতভাবে দ্রুত সমাধান করবেন বলেও জানান তিনি।
পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, নিয়ম মেনেই যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাছে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি।
তিনি বলেন, কেউ আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্বে থাকার সুযোগ নেই। তার মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক কিনা, সেটিও আগে দেখতে হবে।
