ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘জুলাই শহীদ’ মুগ্ধর স্মৃতিস্তম্ভে ‘কালি’
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মুগ্ধ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘জুলাই শহীদ’ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভের প্রতিকৃতি ‘কালি’ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার গভীর রাত থেকে ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় সদর উপজেলার চিনাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মুগ্ধ। ৫ অগাস্টের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার স্মরণে প্রতিকৃতি ও স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়।
সদর উপজেলার চিনাইর ডিগ্রি কলেজের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল সম্বলিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ ছিল। ৫ অগাস্টের পর সেখানে শেখ মুজিবুরের ম্যুরালটি কেউ বিকৃত করে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে ওই স্তম্ভে মুগ্ধের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “রোববার চিনাইর ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে চিনাইরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা এখনও চলছে। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটিয়ে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতে পারে।”
চিনাইর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলী আজম বলেন, “নবীনবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে এলাকায় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। সোমবার থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র এই কাজটি করে থাকতে পারে। ওই চক্র শান্ত চিনাইরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জেলার আহ্বায়ক আজিজুর রহমান বলেন, “যারা দেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তার স্মৃতিস্তম্ভে কালি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল আহমেদ বলেন, “মুগ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের উদ্যোক্তা আমি। কে বা কারা তার স্মৃতিস্তম্ভে কালি দিয়েছে আমি জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমি মর্মাহত। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”
সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “রাতের অন্ধকারে কাজটি করেছে। আসামি শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
