মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল: বাতিলের দাবি রাবি শিক্ষার্থীদের
বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌঁনে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- রাকসু আন্দোলনের মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান বলেন, “আজ যেখানে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরির রিডিং রুমে থাকার কথা ছিল, সেখানে তারা রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে। যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় পরবর্তীতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে অবস্থান নিব।
“এরপরেও যদি মেনে নেওয়া না হয়, আগের মত আমরা সেই রাজপথে নামব। কোটা পুনর্বহালের রায় যতদিন না পর্যন্ত বাতিল করা হবে ততোদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম বলেন, “কোটা দিয়ে কামলা নয় মেধা দিয়ে আমলা চাই। সরকারি চাকরিতে সকল কোটা মিলিয়ে সর্বমোট ৫৬% রয়েছে। আর বাকি ৪৪% মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে।
“যা পাকিস্তানি সরকার কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক নীতির মত। একজন নারী হিসেবে প্রথম শ্রেণির চাকরিতে আমার কোটা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও, এই বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে আমি দৃঢ় প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী সজিব বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সাম্য, নাগরিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৩ বছর পরেও আমরা সাম্যের দেখা পাইনি। এখনও সরকারি চাকরিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোটার নামে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে “
তিনি বরেন, “২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী তা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু বর্তমানে কিছু মুষ্টিমেয় লোক আবারও কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার জন্য হাই কোর্টে আপিল করে এবং হাই কোর্ট তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তও জানালো। যার তীব্র নিন্দা ও বাতিলের দাবি জানাচ্ছি “
এ ছাড়াও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
স্বাধীনতার পরপরই সংবিধান হওয়ার আগে মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে ৩০ শতাংশ কোটা প্রবর্তন করা হয়। সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পূর্ববর্তী সব কার্যক্রমের বৈধতা দেওয়া হয়।
সরকার পরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরও কোটা সুবিধার আওতায় আনে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা হয়।
ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাই কোর্ট রুল দেয়।
রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার রুল অ্যাবসলিউট বা যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয় বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এর ফলে সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র অবৈধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
