২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ

জেলায় প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের খবর শুনে বাগানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Sep 2024, 12:48 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:30 AM

আঙুর বিদেশি ফল হলেও প্রথমবারের মত এর বাণিজ্যিক চাষে সফল হয়েছেন চাঁদপুরের যুবক কামরুজ্জামান প্রধানিয়া। 

এই উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে ২০ শতক জমিতে আঙুর চাষাবাদ শুরু করেছেন। 

চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর-মতলব সড়কের পাশেই দেখা মিলছে তার চাষ করা ভিনদেশি এই রসালো ফলের ফলন। 

বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর। বাঁশের মাচায় ঝুলে থাকা সবুজ আঙুর দূর থেকে পথচারীদের নজর কাড়ছে। 

মাত্র ২০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষাবাদ শুরু করেন বলে জানান উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান প্রধানিয়া। 

তার দাবি, বাংলাদেশে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আঙুর গাছ ছাঁটাই করলে মার্চ-এপ্রিলে ফল পাওয়া যায়। এরপর আবার শীতের সময়ে ফলন আসে। 

কামরুজ্জামান প্রধানিয়া বলেন, “২০২১ সালে করোনা ভাইরাস যখন কমতে শুরু করে, তখন থেকেই আঙুর চাষ নিয়ে কাজ শুরু করি। তবে এই প্রজেক্টটি মাত্র ৬ মাস ধরে শুরু করেছি। প্রথমে আমার ছাদ বাগান থাকে বেশ কিছু জাত নিয়ে আঙুর চাষ শুরু করি। 

কামরুজ্জামান আরও বলেন, “১২০টি মাতৃগাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। কিছু কিছু গাছে শোভা পাচ্ছে রসালো ফল আঙুর। এখানে ৬ মাস ধরে পরিচর্যা করা হচ্ছে আঙুর ফল গাছ।” 

বেকারত্ব দূরীকরণে কামরুজ্জামানের এই ফল চাষাবাদে তরুণদের মধ্যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

জেলায় প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে আঙুর ফল চাষের খবর শুনে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। 

দর্শনার্থী মো. তানভীর হোসেন ও আমির হোসেন সরকার বলেন, চাঁদপুরের মধ্যে আঙুরে বড় বাগান আর কোথাও নেই। 

তাই তারা এই আঙুর বাগানটি দেখতে এসেছেন। এটি দেখে তারাও বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

উদ্যোক্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও আঙুরের চারাও নিচ্ছেন তারা। 

কামরুজ্জামান প্রধানীয়ার প্রকল্পে পরিদর্শনে আসেন কল্যাণপুর ও আশিকাটি ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল ইসলাম ও সাদিকা বেগম।

তারা বলেন, দোআঁশযুক্ত লালমাটি, জৈবিক সার সমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে আঙুর চাষ ভালো হয়। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে, যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না এবং প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে এমন জায়গা আঙুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। 

এলাকায় যেকোনো আঙুর চাষির জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তারা।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী বলেন, “চাঁদপুরে আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের চাষ হত না। যেগুলো হত, তা পরীক্ষামূলক। এবার জেলায় প্রথমবারের মত মিষ্টি আঙুর চাষ শুরু করেছেন উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান। 

“তার এই আঙুর চাষের বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। কৃষি বিভাগ আঙুর চাষে আগ্রহীদের সহযোগিতা করা হবে।”