নববর্ষ: মানিকগঞ্জে মিঠাই কারিগরদের লোকসান কাটানোর আশা
“মাজারে হামলা ও অন্যান্য কারণে মেলা কিছুটা কমেছে।”
নানা কারণে গ্রামীণ মেলা কমে যাওয়ায় সারাবছর মন্দা গেলেও নববর্ষকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় মানিকগঞ্জের মিঠাই তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গ্রাম-বাংলার বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ এই ঐতিহ্যবাহী মণ্ডা-মিঠাই। সাটুরিয়া উপজেলার ভাটারা গ্রামের বণিক পাড়ায় কারিগররা চিনি দিয়ে কাঠের ছাঁচে ফেলে তৈরি করেন হাতি, ঘোড়া, পাখি, মটকা, কদমা ও বাতাসার মত পণ্য। এসব মিঠাই শত বছর ধরে গ্রামীণ মেলার অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে আছে।
রোববার বণিক পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকগুলো পরিবার মিঠাই তৈরি করছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা সমান তালে কাজ করছেন। তারা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়টায় তাদের ব্যস্ততা একটু বেশি থাকে।
গৃহবধূ লিপি বণিক বলছিলেন, চিনির দাম বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে আলাদা শ্রমিক নিতে পারেন না। শ্রমিক নিলে লাভ হয় না। তাই তিনি স্বামীর সঙ্গে কাজ করছেন।
বিমল বণিক বলেন, “মাজারে হামলা, অন্যান্য কারণে মেলা কিছুটা কমেছে। দেড় বছর আয়ও কম ছিল। তবে এবার চাহিদা রয়েছে ভালোই।”
নিজেদের তৈরি মিঠাই মানিকগঞ্জের পাশাপাশি সাভার, ধামরাই, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন বলেও জানান বিমল।
তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান কারিগর শ্যামল বণিক। তিনি বলেন, কাঁচামালের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাসুদেব বণিক বলেন, “সরকারি সহায়তার অভাবে অনেক কারিগর পেশা পরিবর্তন করেছেন। ফলে শত বছরের এই লোকজ শিল্প টিকে আছে নানা সংকটে।”
কারিগরদের দাবি, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ এই মিঠাই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নাহলে একসময় তা হারিয়ে যেতে পারে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “চিনির তৈরি বাতাসা, ঘোড়া, হাতি বা মিঠাই আমাদের ঐতিহ্যর অংশ। আমরা কারিগরদের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কারিগরদের সহায়তা করা হবে।”
