কুষ্টিয়ায় চোরকে চিনে ফেলায় বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা: পুলিশ
একদিন আগে নিজ ঘর থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কুষ্টিয়া শহরের একটি বাসা থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনার পরদিন রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিজ বাড়িতে চুরি দেখে ফেলায় তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সকালে আটক এক ভ্যান চালক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দেন বলে দাবি কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন মাতুব্বরের।
সোমবার বেলা ৩টার দিকে পৌর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশঙ্করপুর এলাকায় থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত জাহানারা বেগম (৬৫) ওই এলাকার প্রয়াত আবুল মোল্লার স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদাগাড়া পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে সংলগ্ন কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
আটক ভ্যান চালক মো. লিটন ওই বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।
পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে জাহানারা বেগমের বাড়ি থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে এক প্রতিবেশী ভেতরে প্রবেশ করে বিছানার গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের ছেলে আব্দুল বারি বলেন, চাকরির কারণে তিনি পরিবারসহ ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে তার মা একাই থাকতেন। তবে বাসা দেখাশোনার কাজে ভ্যানচালক লিটন ও তার স্ত্রী বাড়িতে থাকেন।
লিটনের স্ত্রী মেঘলা খাতুন বলেন, “সকালে আমার স্বামী ভ্যান নিয়ে কাজে বেড়িয়ে যান। এরপর আমিও বেলা ১১টার দিকে বাবার বাড়িতে যাই। আমরা দুজনই বাড়ির বাইরে ছিলাম। উনার মৃত্যুর খবর আমার ছোট বোন প্রথমে আমাকে জানান।”
ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির কেয়ারটেকার লিটনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “নিহতের হাতে থাকা সোনার বালা ও কানের দুল চুরি হয়েছে। রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময় বাড়ির মালামাল চুরি সময় চোরকে চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি কবির হোসেন।
