গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ
এ ঘটনা শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক নয় বরং সব মানুষের জন্য উদ্বেগের বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন এলাকা থেকে শুরু হয়ে বটতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।
শনিবার রাতে ও রোববার বিকালে গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২২টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সমাবেশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নূর-এ তামিম বলেন, “গঙ্গাচড়ার এক কিশোর তার ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। যদি ধরেই নেই তিনি ফেইসবুক মারফত ‘ধর্ম অবমাননা’ কিংবা ‘কটূক্তি’ করেছেন।
“এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পেলাম একটি ধর্মকে অবমাননা করায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিল। কিন্তু তারপর আমরা দেখলাম, প্রতিবাদের নামে মাইকিং করে একদল লোক জড়ো হয়ে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালালো; যা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সামনে ঘটেছে।”
তিনি বলেন, “হামলার পর ওই একালার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন। এ ঘটনা শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক নয় বরং সব সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের।”
বর্তমান ইন্টেরিমের আমলে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এমন একটি বাংলাদেশ হবে, যেটা হবে ধর্মীয় সম্প্রতির এবং সামাজিক সম্প্রতির কিন্তু সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুর-এ তামিম।
তিনি বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতহানার নামে রাজনৈতিকভাবে মব সৃষ্টি করে যদি এ রকম ঘটনা ঘটতেই থাকে তাহলে আমাদের বলতে হয়, এ দেশে দক্ষিণপন্থিদের উত্থান ঘটেছে; যা কোনোভাবেই ভালোর দিকে যাচ্ছে না।”
