নেপালে বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ডেস্কের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন নেপালি শিক্ষার্থীরা।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস ও ভূমিধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন নেপালি শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ডেস্কের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় তারা ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এর মাধ্যমে তারা শোক ও সংহতি প্রকাশ করেন।
এ সময় বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদ ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জরুরি বলেন, “আমরা আজ এখানে সবাই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সমবেত হয়েছি। নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে তাদের পরিবারের সদস্য, ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়েছেন। আমরা এখান থেকে হয়তো তাদের জন্য বড় কিছু করতে পারছি না। তবে অন্তত তাদের প্রতি আমাদের শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করতে চাই।”
নেপালের ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ডেস্কের পরিচালক এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম. আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা আমাদের পরিবারেরই সদস্য। প্রধানমন্ত্রীও নেপালের পাশে থাকার কথা বলেছেন। বাকৃবি একটি পরিবার, উপাচার্যের নির্দেশনায় আমরা তাদের পাশে আছি সবসময়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে সমব্যথী। বন্যায় ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
“বাংলাদেশ সরকারও নেপালকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয় তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে”, বলেন তিনি।
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম বলেন, “এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করি। শিক্ষার্থীদের বলব, যেকোনো ধরনের সহযোগিতা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে নিঃসংকোচে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।”
২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরাতে নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন অন্তত ৯৭৭ জন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (আইএফআরসি) জানিয়েছে, হিমালয়ের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
