২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ছয় মাসের সাজা পাওয়া রামদেব ভারতে ফিরলেন সাড়ে ৬ বছর পর

২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে রামদেবকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত।

ছয় মাসের সাজা পাওয়া রামদেব ভারতে ফিরলেন সাড়ে ৬ বছর পর
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে রামদেবকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Sep 2025, 10:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:18 PM

বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় নাগরিক রামদেব মাহাতোকে ছয় মাসের সাজা দিয়েছিল আদালত। কিন্তু সাজা শেষে হওয়ার পর তাকে কারাগারে আরও সাড়ে ছয় বছর কাটাতে হয়। অবশেষ মুক্তি পেয়ে পরিবারের কাছে ফিরেছেন রামদেব।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে রামদেবকে তার স্বজনদের কাছে বিজিবি হস্তান্তর করে বলে জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার জাকির হোসেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আটকের সময় রামদেবের ঠিকানা সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ না করা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে বিনা অপরাধে তাকে আরও ছয় বছর চার মাস কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে বলে দাবি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শামশুল হুদার। 

জেলার জাকির হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে রামদেবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। ঠিকানা সঠিক না থাকায় ২০১৯ সালের ২৯ মে সাজা শেষ হলেও তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, রামদেব মত ঠিকানা জটিলতায় আরও কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক কারাগারে আছেন। পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেন সমাজকর্মী শামসুল হুদা।

দীর্ঘদিন ধরে হুদা ব্যক্তি উদ্যোগে দুই দেশের কারাগারে বাংলাদেশি ও ভারতীয় বন্দিদের পরিবারের সন্ধান বের করতে কাজ করছেন বলে জানান জাকির হোসেন।

রামদেবের পরিবারের খোঁজ পাওয়া নিয়ে মানবাধিকার কর্মী শামসুল হুদা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারের দেওয়া তালিকা ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতের বিহার রাজ্যের পশ্চিম চাঁমপারণ জেলার মাঝুরিয়া থানার গুদ্রা গ্রামে রামদেবের পরিবারের খোঁজ পান তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ভারতীয় দূতাবাসে রামদেবের তথ্য পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস জাতীয় পরিচয় যাচাই-বাছাই করে মার্চে ছাড়পত্র পাঠায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ১১ মাস পর রামদেবকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সোমবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে রামদেবকে তার ছেলে সুনীল মাহাতো এবং তাদের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লাল বাচ্চা যাদবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হয় বলে জানান শামসুল হুদা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের পুলিশ কর্মকর্তা, কারাগার পুলিশ, বিএসএফ ও বিজিবির সদস্যরা।

শামসুল হুদা বলেন, মনের তৃপ্তির জন্যই এ কাজ করেন তিনি। এ পর্যন্ত ৮০টি প্রত্যাবাসন ঘটনার মধ্যে ৫২টিতে সাফল্য পেয়েছেন। 

তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে অন্তত ১০ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ মার্চ সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে বিহারের বিজলী কুমার রায়ের মৃতদেহ এবং ১১ মে হায়দরাবাদের আসলান নামের এক নাগরিককেও ফেরত পাঠানো হয়।

সম্প্রতি কারা অধিদপ্তর থেকে আরও ১৪০ ভারতীয় নাগরিকের তালিকা হাতে পেয়েছেন শামসুল হুদা।

তিনি বলেন, তাদের অনেকের সঠিক ঠিকানা নেই। এর মধ্যে কয়েকজনের পরিবার খুঁজে পাওয়া গেছে, বাকিদের ক্ষেত্রেও কাজ চলছে। 

এ ছাড়া ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক কয়েকজন বাংলাদেশি নারীকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই মানবাধিকারকর্মী।