২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মেহেরপুরে ভোটারদের মুখোমুখি উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীরা

ভোটারদের অভিযোগের সদুত্তর দিতে পারেননি প্রার্থীরা। তবে তারা ভোটারদের কেন্দ্রমুখি হওয়ার অনুরোধ জানান।

মেহেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 May 2024, 10:59 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:05 PM

মেহেরপুরের গাংনীতে দ্বিতীয় ধাপে হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটারদের মুখোমুখি হয়েছেন। 

শনিবার স্থানীয় সংগঠন ‘পিস ফেসিলিটেটর গ্রুপ-পিএফজি’ গাংনী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ‘জবাবদিহিতায় জনতার মুখোমুখি প্রার্থীরা’শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

এতে ২১ মে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফায় গাংনী উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, তিন ভাইস চেয়ারম্যান এবং তিন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একত্রিত হন।

একে অপরের হাতে হাত ধরে মঞ্চে দাঁড়ালে করতালি দিয়ে ভোটাররা তাদের অভ্যর্থনা জানান। 

এরপর ওঠে আসে উপস্থিত ভোটারদের নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের কথা। 

ভোটাররা বলেন, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা ভালো ভালো কথা বলেন; নানা প্রতিশ্রুতি দেন। মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তখন সব প্রার্থীই ভোটারের কাছের মানুষ হয়ে যান। অথচ ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা ভোটারের কথা ভুলে যান। 

ভোটারদের এমন অভিযোগের সদুত্তর দিতে পারেননি প্রার্থীরা। 

তবে প্রার্থীরা ভোটারদের কেন্দ্রমুখি হওয়ার অনুরোধ জানান। 

তারা অঙ্গীকার করে বলেন, বিগত দিনের মত এমন চর্চা ভবিষ্যতে আর হবে না। এবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সর্বদা জনগণের কাছে জবাবদিহির মাধ্যমে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা সহ সামাজিক নানা উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।  

এর আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ ভোটাররা হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শপথে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করেন- তারা অসৎ, দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারি, ঘুসখোর, চাঁদাবাজ কোনো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন না। 

শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পিস ফেসিলিটেটর গ্রুপ মাস্টার, প্রশিক্ষক  সিরাজুল ইসলাম বলেন, “প্রতিযোগীর প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী নন, সহযোগী বা সহযোদ্ধা মনোভাব দেখাতে হবে। তাহলে নির্বাচনে সহিংসতা ঘটবে না।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রীতম সাহা বলেন, “প্রার্থীদের মধ্যে অবশ্যই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তা নাহলে প্রার্থীরা এখানে এক মঞ্চে আসত না। নির্বাচনি প্রচার শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাংনীতে কোনো অনিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। এটা শুভ লক্ষণ।” 

গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “নির্বাচনি এজেন্টরা যেন ভয়-ভীতিহীনভাবে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন তার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। 

“কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু সেটা যেন প্রতিহিংসার রূপ না নেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।” 

গাংনী থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের আগের এবং পরের প্রতিটি সময় শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে আছে। এক্ষেত্রে শান্তি বিনষ্টকারী কাউকে প্রশ্রয় দেবে না পুলিশ।” 

এরপর প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের মুক্ত প্রশ্নোত্তোর পর্ব শুরু হলে কাজীপুর গ্রামের মহব্বত আলী, বেতবাড়িয়া গ্রামের মহসিন আলী, রাইপুর গ্রামের সাকলাইন হোসেন, কসবা গ্রামের মারুফ সরকার, বামুন্দী গ্রামের শাহানারা আক্তারসহ অন্তত ১৫ জন ভোটার প্রার্থীদের উদ্দেশে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ ছুড়েন।

পরে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি পর্বে গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ফের একই পদপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, “৫ বছর চেয়ারম্যান আছি। চেষ্টা করেছি, জনগণের সেবা করার। অফিসে, বাড়িতে, বাইরে সব সময় মানুষের সমস্যা শুনেছি। আমি চাই, সামনের নির্বাচন অবাধ হোক। জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিক। যে কোনো রায় মাথা পেতে নেবে।” 

চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ অপচয় রোধে কাজ করব। যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করব। সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সমাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করব। 

আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুকুল জোয়ার্দ্দার বলেন, “নির্বাচিত হলে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাব।”

একই পদের আরেক প্রার্থী গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান মুকুল বলেন, “সংঘাতবিহীন নির্বাচন করতে আমি সদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একটি উৎসবমুখর নির্বাচন প্রত্যাশা আমার। আমার কাছে রাজনীতির হলো সমাজসেবা, দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়া নয়।” 

চেয়ারম্যান প্রার্থী গাংনী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান একেএম শফিকুল আলম বলেন, “নির্বাচিত হলে শিল্প সংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমে একটি অহিংস সমাজ গড়ব। উন্নত কৃষির আবির্ভাব ঘটিয়ে কৃষকের ভাগ্য বদলাব।”

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক সাংসদ পত্নী লায়লা আরজুমান বানু বলেন, “নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান হবে তার মূল লক্ষ্য।” 

চেয়ারম্যান প্রার্থী গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক জুয়েল বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ক্ষমতাকে নিজ স্বার্থে নয়, মানুষের স্বার্থে ব্যবহার করব। মানুষকে মূল্য দিব।” 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের যশোর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গ্রামের ৫০ জন নারী এবং ১০০ জন পুরুষ ভোটার অংশগ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানে ছিলেন নাগরিক প্রজেক্টের যশোর অঞ্চলের ডিস্ট্রিক ফেসিলেটর গিয়াস উদ্দিন, হাঙ্গার প্রজেক্টর গাংনী অফিসের এরিয়া সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন, যশোর আঞ্চলিক হিসাবরক্ষক অধীশ দাশ, পিস ফেসিলিটেটর গ্রুপের সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বকুল, সদস্য আবু সাদাত সায়েম, মাহবুব হোসেন, জুলফিকার আলী কানন, তৌহিদুজ্জামান রেজা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের মেহেরপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।