২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিয়েতে ৫ লাখ দিয়েছি, আরও তিন লাখের জন্য মেয়েটাকে মেরে ফেলল’

২৬ অগাস্ট নীলফামারীর কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকা থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 10:04 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য নাছরিন নাহার নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ করেছে পরিবার।  

সোমবার দুপুরে নীলফামারী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার এই অভিযোগ করেন। 

এ সময় সেখানে নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার, প্রথম স্বামীর সন্তান নিয়ামুল হক উপস্থিত ছিলেন। 

২৬ অগাস্ট সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকা থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের বাবা বলেন, “আগের স্বামী মারা যাওয়ার পর আব্দুল মান্নানের সঙ্গে নাছরিনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হলেও পরে আরও তিন লাখ টাকার জন্য চাপ দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

“২৬ অগাস্ট টাকা না পেয়ে নাছরিনকে মারধর করে হত্যার পর ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান। পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। যৌতুকের জন্য আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলছে।”

নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার অভিযোগ করেন, “পরে আমরা জানতে পেরেছি, আব্দুল মান্নানের আগের দুটি বিয়ে ছিল এবং সেই স্ত্রীরাও একইভাবে নাকি আত্মহত্যা করেছিল। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে।”

তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা করলেও এখনও কোনো আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। 

নীলফামারী থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, নাছরিনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় স্বামী আব্দুল মান্নানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই পলাতক রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।