০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

দেড়মাস লড়ে হার মানল রাফসান, আইসিইউ না পাওয়ার আক্ষেপ বাবার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুটি মারা যায়।

ইলিয়াস আহমেদ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 May 2026, 12:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:36 PM

দেড়মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলো দেড় বছরের রাফসান। 

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুটি মারা যায়। 

হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা থাকলে হয়তো ছেলেকে হারাতে হতো না বলে আক্ষেপ পারভেজ মোশাররফ ও রুপা আক্তার দম্পতির।  

একমাত্র সন্তান রাফসান আয়ারকে সুস্থ করতে গত দেড় মাস তারা অবিরাম ছুটে চলেছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা পারভেজ পেশায় চা দোকানী। 

তিনি বলেন, “গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাফসান জ্বর থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তখন তাকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন ভর্তি ছিলাম। তারপর ২৬ এপ্রিল ছেলেকে হামের টিকা দেয়া হয়। 

“পরে আবার জ্বর আসলে মাওনা আল হেরা হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২ দিন থাকলে পরে বাড়িতে নেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে। আবারও আল হেরা হসপিটালে তিনদিন থাকি।

“পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ৫ মে চিকিৎসকরা ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার্ড করে। তারপর থেকে এখানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে আমার ছেলেটা চিকিৎসাধীন ছিল। বুধবার রাতে সে আমাদের ছেড়ে চলে যায়।”

সন্তানহারা এ বাবা আরও বলেন, “ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টার কমতি রাখিনি। আক্ষেপ শুধু একটাই ময়মনসিংহ মেডিকেলে আইসিইউ থাকলে হয়তো আমার ছেলে বেঁচে থাকতো। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এমন ভাবা যায় না, বিভাগীয় শহরে শিশুদের জন্য আইসিউ নেই এটি হতে পারে না। ”

গত দুই মাসে এ হাসপাতালটিতে হাম ও হামের উপসর্গে ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকসহ স্বজনদের দাবি, আইসিইউ থাকলে হয়তো এদের মধ্যে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা পেত।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা.মাজহারুল আমীন বলেন, “অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বিশেষ করে তারাই বেশির ভাগ মারা যাচ্ছে। এসব শিশু মায়ের বুকের দুধ খুব একটা খায়নি। যে কয়েকজন শিশু মারা গেছে তারা আইসিইউ উপযোগী। হয়তো আইসিইউ থাকলে অনেকে বেঁচে থাকতো।”

আইসিইউ না থাকায় শিশু মৃত্যু বাড়ছে বলে জানান হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা।

তিনি বলেন, “এই সময়ে আইসিইউ খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তাহলে হয়তো এতো শিশুর মৃত্যু নাও হতে পারতো। তবে শিশুদের আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সেটি হলে এই অঞ্চলের শিশুরা আরও সুরক্ষিত থাকবে।”

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশু মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৪ শিশু। 

এসময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ১৭ শিশু। হাসপাতালে মোট ভর্তি ১০২ শিশু। 

এছাড়া গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩১৭ জন ভর্তি হয়েছে, ১ হাজার ১৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলেও জানান হয় বিজ্ঞপ্তিতে।